অশীতিবর্ষে সংবর্ধিত হলেন ড. আনিসুজ্জামান

বাংলার বিদ্বান সমাজে এখনও যাঁরা দ্যুতি ছড়াচ্ছেন তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে অবস্থান করছেন ড. আনিসুজ্জামান। বর্তমানে এমিরেটাস অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে ড. আনিসুজ্জামানের গবেষণার কারণে বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে। তাঁর অবদানকে স্মরণ করে সম্প্রতি চন্দ্রাবতী একাডেমি আয়োজন করে একটি সংবর্ধণা অনুষ্ঠানের।

গত ২৭ অক্টোবর, শুক্রবার, বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এ অনুষ্ঠানের। এখানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের অশীতিবর্ষপূতি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবি ব্যাংক লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘সুরের ধারা’ শিশুশিল্পীরা মাঙ্গলিক সংগীত পরিবেশন করে এবং আলোচনার শুরুতেই শংসাপত্র পাঠ করেন সাংবাদিক জাহীদ রেজা নূর।

আলোচনা পর্বে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জীবন এবং সৃষ্টিকর্মের ওপর আলোচনা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, নারীনেত্রী মালেকা বেগম, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, প্রাবান্ধিক মফিদুল হক, কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা।

অনুষ্ঠানে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘জীবনের এ বেলায় এসেও নিজেকে বৃদ্ধ মনে হয় না। জীবন তৃষ্ণার আবেগে এখনও নিজেকে তরুণ মনে হয়। যা পেলাম, তাতে তৃপ্ত। প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তিই বেশি। নইলে কী আর এত ভালোবাসা! দীর্ঘ জীবনের কোনো বিশেষত্ব নেই, যদি না জীবনে সৃষ্টি থাকে। বাবার নিকট থেকে সময়নুবর্তিতা শিখেছিলাম আর সত্যানুবর্তিতা শিখিয়েছিলেন মা।’

নিজের মা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘১৯৫২ সালে শহীদ মিনার নির্মাণের পরপরই মা আমাকে আর বাবাকে নিয়ে শহীদ মিনারে যান। সেখানে সবাই ফুল দিচ্ছিল শহীদের স্মরণে। মায়ের কাছে ফুল ছিল না। মা হাতের বালা খুলে দিয়েছিল শহীদ মিনারের বেদিতে।’

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘বয়সে ছোট হলেও অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আমার বুক রেফারেন্স। তার কাছ থেকে এখনও শিখি।’ অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে সমাজের বাতিঘর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাতিঘরের আলো দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্ব দরবারেও আলোকিত হচ্ছে। তার মতো গুণীজনের সান্নিধ্য পেয়ে আমরা গর্বিত।

অনুষ্ঠানে আনিসুজ্জামান সম্মাননা গ্রন্হের মোড়ক উন্মেচন করা হয় এবং সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এবং অদিতি মহসিন আনিসুজ্জামানের পছন্দের ৬টি রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন এ আসরে।