আন্তর্জাতিক উৎসবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র

ষাটের দশকে বাঙালীর মুক্তি সংগ্রাম, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যূত্থান নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ধন ধান্য পুষ্প ভরা সম্প্রতি ৩টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। উৎসবগুলো হচ্ছে ইরাকের আল নাজ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, ভারতের সাউথ এশিয়ান শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং ইতালির সান মাওরো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে উৎসবগুলোতে প্রদর্শিত হবে চলচ্চিত্রটি। প্রামাণচিত্রটির গবেষণা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন তরুণ নির্মাতা ফরিদ আহমদ।

বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক অনুদানে নির্মিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র ধন ধান্য পুষ্প ভরা। ২০১২ সাল থেকে সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মানের জন্য অনুদান প্রদান শুরু করে আসছে। তখন এই প্রামাণ্যচিত্রটি অনুদানের জন্য নির্বাচিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে এটি ভারতের ‘ডকওয়াক’ আয়োজিত দক্ষিন এশিয়ার নির্মানাধীন প্রামাণ্যচিত্রের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে আমন্ত্রিত হয়। জার্মানীর ‘ডক লাইপজিগ’-এর সহযোগিতায় ডক ওয়াকের বছরব্যাপী পোস্ট প্রডাকশন মেন্টরিং এর মাধ্যমে এই প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি বর্তমানে সেন্সর বোর্ডে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রামাণচিত্রটি সম্পর্কে এর পরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও পাকিস্তানি শাষকদের শোষণ ও নির্যাতনের প্রেক্ষিতে ষাটের দশকের শুরুতে বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করার পদক্ষেপ নেন সামরিক বাহিনীর কিছু বাঙালি সদস্য। প্রাথমিক অবস্হায় এই পরিকল্পনা সংগঠিত করেন লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সমর্থন, পরামর্শ এবং নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা আন্দোলন যখন রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছিল তখনই এ পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। গ্রেফতার হয় প্রায় ১৫০০ বাঙালী। ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ভারতবিরোধী সাধারণ মানুষের সমর্থন পাওয়া যাবে এই প্রত্যাশায় তৎকালিন পাকিস্তান সরকার মামলার প্রকৃত নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব এবং অন্যান্য’র স্থানে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামটি ব্যপকভাবে প্রচার শুরু করে। অন্যদিকে মামলার বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার সমর্থন পাওয়ার জন্য মামলাটি মিথ্যা মামলা বলে প্রচার করা হয়।

প্রামাণ্যচিত্রের একটি দৃশ্য

মামলা শুরুর দিন থেকেই সারা দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে থাকে। ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র জনতা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে রাজপথে নেমে আসে। ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছাত্র জনতার আন্দোলন গণ-অভ্যূত্থানে রূপ নেয়। অবশেষে ২২শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব অভিযুক্তদের নিঃশর্তে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার। পরদিন আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ঐতিহাসিক এই আগরতলা মামলার ইতিহাস তুলে ধরতেই এই প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন বলে জানান নির্মাতা ফরিদ আহমদ।