গণ অর্থায়নে তানভীর মোকাম্মেলের নতুন ছবি

সরকারী অনুদান পাওয়া সত্ত্বেও বাকি বাজেট জোগাড় করতে ক্রাউড ফান্ডিং বা গণ অর্থায়নের পথে নেমেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থী রাজনৈতিকদের ভূমিকে তুলে ধরে নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন গুণী এই পরিচালক। রূপসা নদীর বাঁকে নামে এই চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সরকারি অনুদানও পেয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং দেশে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ওই ত্যাগী বামপন্থী নেতাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইতিহাসের এই ভুলে যাওয়া মহান লোকদের গল্প বলতেই তিনি নতুন এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন। তাতে উঠে আসবে মানব মুখার্জি নামের এক ত্যাগী বামপন্থী নেতার গল্প। তিনি আদর্শিকভাবে বামপন্থী রাজনীতি করেন। তবে তার রাজনীতির মূল উদ্দিষ্ট মানুষ। এই মানুষটির জীবন ও তার ত্যাগী রাজনৈতিক জীবনই চলচ্চিত্রটির মূল উপজীব্য। আর চলচ্চিত্রটির শেষ হবে মুক্তিযুদ্ধে এসে, রাজাকারদের হাতে তার মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শুভ মহরত অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিনেমাটির বেশ কজন কলাকূলশলী এবং অভিনেতা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রটি একটি কাল্পনিক চরিত্র। তবে ঘটনাগুলো পুরোপুরি কাল্পনিক নয়। সে সময় এমন একশর বেশি নেতা ছিলেন বামদলের ভেতর, যাদের বলা হতো দাদা কমরেড। তাদের কর্ম ও নেতৃত্বের ওপর ভিত্তি করেই এই অঞ্চলের বামপন্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই নেতাদের জীবনকাহিনির ভিত্তিতেই সৃষ্টি করা হয়েছে মানব মুখার্জি চরিত্রটি। তার ভিত্তিতেই নির্মিত হচ্ছে তানভীর মোকাম্মেলের রূপসা নদীর বাঁকে।

উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত অনুদানের জন্য মনোনীত হয়েছে। চলচ্চিত্রটির মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৯৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে অনুদান বাবদ পাওয়া যাচ্ছে ৫০ লক্ষ টাকা। বাকি টাকা তোলার পদ্ধতিটাও আমাদের দেশে বেশ নতুন। বাকি টাকা তোলা হবে ক্রাউড ফান্ডিং বা গণ অর্থায়নের মাধ্যমে। অবশ্য পরিচালক তার এর আগের প্রামাণ্যচিত্র সীমান্তরেখা নির্মাণের সময়ও এই পদ্ধতিতে টাকা তুলেছেন। সেটার সাফল্যই সম্ভবত তাকে এই কাহিনিচিত্রেও ক্রাউড ফান্ডিংয়ে উৎসাহী করেছে। তবে আরেকটা কারণও আছে। যেহেতু চলচ্চিত্রটি সত্যিকার বামপন্থী আদর্শের নেতাদের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখে নির্মিত করছেন, তাই পরিচালক কোনো বাণিজ্যিক উৎস থেকে টাকা তোলাটাকেও বিবেচনা করতে চাননি। আর সেজন্যই এই গণ অর্থায়ন।