গ্যালারি চিত্রকে ১১ শিল্পীর যৌথ প্রদর্শনী

প্রদর্শনী কক্ষের দেয়ালজুড়ে ঝুলছে রং ও রেখার বৈভব ছড়ানো অনেকগুলো ক্যানভাস। সেসব চিত্রপটে উঠে এসেছে বহুমাত্রিক বিষয়। চিত্রিত হয়েছে নিসর্গের আখ্যান, নারীর সৌন্দর্য কিংবা যাপিত জীবনচিত্র। শিল্পরসিকের নয়নজুড়ানো ছবিগুলো এঁকেছেন গত শতকের পঞ্চাশের দশকের বিভিন্ন সময়ে জন্ম নেয়া ১১ জন চিত্রশিল্পী। বিশেষ এক বৈশিষ্ট্যে এই চিত্রকরা মিলে গেছেন সমান্তরাল রেখায়। তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের (তৎকালীন আর্ট কলেজ) ৭৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। সত্তরের দশকে চারুশিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ চুকিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিলেন বিভিন্ন স্থানে। শিল্প সৃজনের তাগিদে তারা আবার একত্রিত হলেন এক ছাদের নিচে। তাদের চিত্রকর্ম নিয়ে ধানমণ্ডির গ্যালারি চিত্রকে চলছে ‘ফ্রেম-৭৪’ শীর্ষক প্রদর্শনী।

গত ৫ মার্চ বিকেলে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী জনাব হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী শহিদ কবীর ও অধ্যাপক ড. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হাসানুল হক ইনু বলেন, সামনের পথ নির্ধারণই শিল্পের সবচেয়ে বড় ভূমিকা। শিল্পীরা সমাজও রাজনীতি ও দর্শনের পথ বাতলে দেন- কোন পথে যাবো আমরা, কোন পথে যাবে দেশ। বাংলাদেশের নিজের পথে চলতে তাই শিল্পীদের কাজের কোনো বিকল্প নেই।

প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ফুল, পাখি, নদী, মানুষ ও বাংলার প্রকৃতিকে উপজীব্য করে এই ১১ শিল্পীর ৬০টি চিত্রকর্ম। বিষয়ভিত্তিক ছবির সঙ্গে শিল্পীদের রং-তুলির আঁচড়ে উদ্ভাসিত হয়েছে বিমূর্ত ছবিও। মাহমুদুর রহমান অপু এঁকেছেন সত্তরের দশকে যাত্রীবাহী বাস। কারও চিত্রপটে ঠাঁই করে নিয়েছে নদী, নৌকা ও নিসর্গের সবুজ শ্যামলিমা। একাধিক ক্যানভাসে চিত্রিত হয়েছে নানা রূপী নারীর অবয়ব। এনামুল হকের ক্যানভাসে দেখা মেলে স্বচ্ছ জলাশয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত এক সাদা বককে। জি এম খলিলুর রহমান বিমূর্তধারায় চাঁদের বুড়িকে তুলে এনেছেন ক্যানভাসে। এ ছাড়াও সত্তরের দশকের কিছু সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে বিভিন্ন চিত্রকর্মে।

প্রদর্শনীতে অংশকারী শিল্পীরা হলেন আজিজুল হক, এনামুল হক, ফরিদ হোসেন সিদ্দিকী, জি এম খলিলুর রহমান, আইভি জামান, মাহমুদুর রহমান অপু, পারভীন জামান শাম্মু, রাহাত নিলুফার, শাকিনা হোসেন, শামিনা শারমিন ও ওয়াহিদ জামান টোকন।

১১ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী শেষ হবে আগামী ১৫ মার্চ। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনীটি।