জলরঙে মুক্তির মূর্ছনা

শিল্প সৃজনের অনুপ্রেরণার মূল উৎস প্রকৃতি, শিল্পীর পরিপার্শ্ব, কল্পনা এবং অভিজ্ঞতা। এ সবকিছুর সঙ্গে শৈল্পিক মনন এবং আবেগের মিশ্রণে জন্ম নেয় শিল্পভাবনা। রং তুলির আঁচড়ে সেই ভাবনা মূর্ত হয় মূর্ত-বিমূর্ত রূপে। স্বভাবশিল্পী জাহাঙ্গীর আলম উপহার দিলেন জল রঙের এক মায়াবী প্রদর্শনী যেখানে চিত্রিত হয়েছে শিল্পীর খেয়ালে মুক্ত হওয়া ভাবনাসমগ্র। ‘পিঞ্জরমুক্ত’ নামে রাজধানীর অলিয়সঁ ফ্রসেজের লা গ্যালারিতে চলছে তরূণ এই শিল্পীর প্রথম একক প্রদর্শনী।

 

শখের বসে ছবি আঁকতে আঁকতে বর্ণপর্দার ফ্রেমে বাঁধা পড়ে গেছেন শিল্পী জাহাঙ্গীর আলম। পেশায় সাংবাদিক হলেও নিয়মিত বিচরণ করছেন শিল্প সাহিত্যের আনন্দভুবনে। লিখেছেন কবিতা, ছয় বছর ধরে আঁকছেন ছবি। তাঁর পছন্দের মাধ্যমও জলরং। এর কারণ হিসেবে বললেন, বাংলাদেশের প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধের সঙ্গে জল রঙের প্রেম সবচেয়ে গভীর। তার চিত্রকর্মেও ফুটে ওঠে প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গ। বাংলার গাছ, মাটি, নদী, ফুল, জল ও মেঘ যেন আলাদা চরিত্র হয়ে হাজির হয় তার ক্যানভাসে।

সঙ্গীতের সুর, কবিতার ভাব-ছন্দ নারী-শরীরের নৃত্যভঙ্গি নতুন ভাষা পেয়েছে জাহাঙ্গীর আলমের চিত্রকর্মে। আলোছায়ায় মোড়ানো এসব চিত্রকর্মকে তিনি নামাঙ্কিত করেছেন তার উৎসাহের সূত্র ধরে। গৌড়িয় নৃত্য, দেশ, চাঁদের আলোয় পাগলামী, রাগ মালকোশ, মেঘের লীলাখেলা, মায়াবী গোধূলি, পৌরাণিক উপাখ্যান এমন অনেক বিষয় আশ্রয় করে রূপ নিয়েছে তার চিত্রভাষা। প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত কাজগুলো কয়েকটা সিরিজে বিভক্ত। এস সিরিজ চিত্রকর্মের নামের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে তার বৈচিত্রময় শিল্পমানস।

প্রদর্শনী উদ্বোধন করছেন অতিথিরা

সামাজিক বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে অ্যাকাডেমি জীবন অতিবাহিত করলেও ভালোবাসার তাড়ণায় যুক্ত থেকেছেন সঙ্গীত, সাহিত্য ও শিল্পের সঙ্গে। সামাজিক প্রতিকূলতা জয় করে জাহাঙ্গীর আলম শিল্পী হিসেবে হাজির হয়েছেন বিদ্রোহী এবং প্রেমের বার্তা নিয়ে।

আগামীকাল ১৫ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে শিল্পীর এই প্রদর্শনী।