ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়

বসন্ত মানে নতুনের বার্তা। প্রকৃতিতে জাগে সৃজনের সাড়া। আর চনমনে ফাগুনি হাওয়ায় ঋতুরাজের প্রথম দুটি সন্ধ্যা উদযাপন করলো বেঙ্গল বই। গতবছর মধ্য নভেম্বরে ধানমণ্ডিতে চালু হওয়া এই পুস্তক বিপনি নিয়মিত আয়োজন করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এর ধারাবাহিকতায় বেঙ্গল বই এবার পহেলা ফাল্গুন এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আয়োজন করে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের। গত ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গল বই প্রাঙ্গণ মুখর ছিলো ‘ফাগুন সমীরণে’ ও ‘ভালোবাসার গল্প’ উৎসবে।

ফাল্গুনের প্রথম সন্ধ্যায় সানিডেইল স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিলো কবিতা, সংগীত এবং নৃত্য। শিক্ষার্থীরা প্রথমে সমবেতভাবে গান ও নৃত্য পরিবেশন করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বিশ্ববীণা রবে বিশ্বজন মোহিছে’ গানের সঙ্গে। এসময় ক্ষুদে শিল্পীরা সুকুমার রায়ের ‘সৎ পাত্র’ ও ‘নারদ নারদ’ আবৃতি করে। এরপর সমবেত কণ্ঠে একে একে কবিগুরুর ‘দখিন হওয়া জাগো জাগো’, ‘ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান’, ‘সব দিবি কে সব দিবি পায়’, ‘মোরা নাচি ফুলে ফুলে দুলে দুলে’, ‘আজি দোল ফাগুনের দোল লেগেছে’, ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাও গো গান গেয়ে শোনায় তারা।

গান শেসে মঞ্চে আসে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ঝিনাইদহের নাট্যগোষ্ঠী দিশারী। দিশারী নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় ছিলো যাত্রাপালা ‘অনুসন্ধান’। রঞ্জন দেবনাতের গল্পে যাত্রাপালাটি পরিচালনা করেন বাবু গোবিন্দ পাল।

সমবেত সংগীত পরিবেশন করছে ক্ষুদে শিল্পীরা

ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখ বিশ্বব্যাপী উৎযাপন করা হয় ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে। এদিন উপরক্ষে বেঙ্গল বই প্রাঙ্গণেও ছিলো বিশেষ আয়োজন। বেঙ্গল বইয়ের পাঠক ও অনলাইন অনুসারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা পুরানো দিনের ভালবাসার চিঠি সংগ্রহ করে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে পুরানো দিনের চিঠি ছাড়াও তুলে ধরা হয় ভালোবাসা নিয়ে বিভিন্ন সাহিত্যিকদের বাণী ও চিত্রকর্ম।

চিঠির প্রচলণ এখন প্রায় বিলুপ্ত। তাই তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সৈকত জানালেন তার বিস্ময়ের কথা, আমরা বড় হয়েছি মোবাইল ফোনের সময়ে। তাছাড়া এখন ফেসবুক, মেসেঞ্জার আর অন্যান্য ‘চ্যাটিং অ্যাপের’ কল্যাণে যোগাযোগ অনেক সহজ। আগে চিঠিতে মানুষ প্রিয়জনের কাছে কীভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে তা দেখে অবাক লাগছে।’

এ ছাড়াও সন্ধ্যা ৬টা থেকে বেঙ্গল বই প্রাঙ্গণে ছিল গল্প ও গানের আয়োজন। বিশেষ এই দিনে নিজেদের ভালোবাসার গল্প ও গানে তুলে ধরেন শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল ও কল্পনা আনাম। এছাড়া ডা: শাকিল আখতার ও আফসানা করিম এবং স্থপতি নিশাত আরা খন্দকার ও জাফর ইকবাল দম্পতি নিজেদের ভালোবাসার গল্পও তুলে ধরেন। এরপর পুরানো দিনের ভালোবাসার গান পরিবেশন করেন শিল্পী তানজিনা করিম স্বরলিপি ও মফিজুর রহমান।

উল্লেখ্য, বেঙ্গল বই এর দোতলা ও তিনতলাজুড়ে আছে দেশি-বিদেশি বই। নিচতলায় সব শ্রেণির পাঠকের জন্য আছে পুরনো বই ও ম্যাগাজিন, সঙ্গে চা। দোতলায় নিভৃতে বসে বই পড়ার জন্য রয়েছে আধুনিক ক্যাফে। দোতলায় আছে খোলা বারান্দায় বসে কফি খাওয়ার সুযোগ। প্রবীণদের জন্য রয়েছে বইয়ে বিশেষ ছাড় এবং বাগানে বসে আড্ডা দেওয়ার পরিবেশ। ভবনের তিনতলার প্রায় পুরোটাই শিশুদের জন্য। শিশুবান্ধব পরিবেশে বইপড়া ছাড়াও গল্পবলা, আবৃত্তি, ছবি দেখা ও আঁকাআঁকির পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে এখানে।