বই প্রেমীদের নতুন ঠিকানা

বই প্রেমীদের জন্য রাজধানীর ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করল বই বিপনি- বেঙ্গল বই। দেশি-বিদেশি বই আর সময় কাটানোর বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নতুন আয়োজন বেঙ্গল বই। গত ১৪ নভেম্বর বিকেলে উদ্বোধন হলো এটির। অতিথি ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী ও এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক নিয়াজ জামান ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব আবুল খায়ের।

উদ্বোধনী আয়োজনে মোড়ক উন্মোচন করা হয় বেঙ্গল পাবলিকেশন্‌স থেকে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আখ্যান স্টোরিজ ফ্রম দ্য এজ: পার্সোনাল ন্যরেটিভস অব দ্য লিবারেশন ওয়ার শীর্ষক বইয়ের।

ঢাকা শহরে খুব বেশি বইয়ের বিপনি নেই, যেখানে গিয়ে বই পড়া আর আড্ডা দেওয়া যাবে। এখানে এসে অসাধারণ লাগছে! এমন আয়োজনকে সত্যি অভিনন্দন জানাতে হয়- বলে মন্তব্য করেন গওহর রিজভী। স্টোরিজ ফ্রম দ্য এজ: পার্সোনাল ন্যারেটিভস অব দ্য লিবারেশন ওয়ার বইটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন নানা প্রেক্ষাপট নিয়ে রচিত বইটি তরুণ প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধকে এক নতুন মাত্রায় উপস্থাপন করবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তুলে ধরতে আমাদের এমন উদ্যোগ আরও প্রয়োজন।’

স্টোরিজ ফ্রম দ্য এজ: পার্সোনাল ন্যরেটিভস অব দ্য লিবারেশন ওয়ার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করছেন অতিথিবৃন্দ

এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম এখন আধুনিক প্রযুক্তির কী সব খেলা নিয়ে ব্যস্ত। ওদের সাথে কথা বলতে গেলে ওদের চোখ থাকে মোবাইলে। এদের বইয়ের জগতে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। বলা হচ্ছে, আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে ছাপার বই হারিয়ে যাবে। কিন্তু দেখুন, প্রতি বছর বইমেলায় প্রকাশিত বই, প্রকাশকের সংখ্যা কিন্তু বাড়ছে, বাড়ছে বিক্রি। এদেশে ছাপার বইয়ের আবেদন রয়েছে। এখন আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বইমুখো করতে হবে।’

প্রকাশিত বইটি নিয়ে অধ্যাপক নিয়াজ জামান বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তক থেকে ছেলেমেয়েরা আর কতটা জানবে মুক্তিযুদ্ধকে! আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি, তাদের নানা অভিজ্ঞতা যদি আমরা লিখতে থাকি, তবে এই প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আরো বেশি করে জানানো যাবে।’

আবুল খায়ের বলেন, ‘দেশজ সংস্কৃতি চর্চার নানামুখী কর্মপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন জনরুচি, জীবন ও মননে মাত্রা সঞ্চারে প্রয়াসী। এই কর্মপ্রবাহের ধারাবাহিকতায় রুচিশীল পাঠক তৈরির লক্ষ্যে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির মিলন-আবহে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেঙ্গল বই।’

এক কাপ কফি নিয়ে বসে পড়ার আয়োজনও থাকছে

বাংলাদেশের ২৫টি ও ভারতে ১৫টি প্রকাশনার বই পাওয়া যাবে এখানে। গল্প, উপন্যাস থেকে শুরু করে মিলবে শিল্পকলা, সাহিত্য, স্থাপত্যবিষয়ক বইও। এছাড়া ভবনের তিন তলায় ‘আকাশকুসুম’ নামের অংশে থাকছে শিশুদের জন্য মজার মজার বই এবং অন্যান্য শিক্ষাপোকরণ। বাংলাদেশের প্রকাশিত যে কোনো বই ২০ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি হবে এখানে। বইয়ের পাশাপাশি থাকছে লেখাপড়ায় সহায়ক নানা সামগ্রী। বেঙ্গল বই-এ নিয়মিত পাঠচক্র, কবিতা পাঠের আসর, নতুন লেখা ও লেখকের সঙ্গে পরিচিতিমূলক সভা, প্রকাশনা উৎসব, চিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন থাকবে বলেও জানিয়েছেন আয়োজকরা।

বেঙ্গল বইয়ের যাত্রা শুরু উপলক্ষে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যা গান, আড্ডা, গল্প, বই প্রকাশনা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে মুখর থাকবে লালমাটিয়ার ডি ব্লুকের ১/৩ ঠিকানায় বেঙ্গল বইয়ের প্রাঙ্গণ।