বিদেশি প্রকাশনায় বাংলাদেশি স্থাপত্যের প্রতিচ্ছবি

বাংলাদেশের স্থাপত্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার প্রয়াস ‘বেঙ্গল স্ট্রিম’। সুইজারল্যান্ডের বাজেল শহরে অবস্থিত সুইস আর্কিটেকচার মিউজিয়াম এবং বেঙ্গল ইনষ্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মত বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শনগুলো নিয়ে গত বছর ১ ডিসেম্বর শুরু হয় এই প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীর আলোকে প্রকাশিত হলো বেঙ্গল স্ট্রিম:দ্য ভাইব্রান্ট আর্কিটেকচার সিন অব বাংলাদেশ। গত ২ মার্চ সন্ধ্যায় এ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয় হোটেল ওয়েস্টিনে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব গওহর রিজভী, ডেইলি স্টারের সম্পাদক জনাব মাহফুজ আনাম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত জনাব রেনে হলেনস্টেইন।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক স্থপতি কাজী খালিদ আশরাফ, বেঙ্গল স্ট্রিম প্রদর্শনীর কিউরেটর ও বইটির সম্পাদক নিক্লস গ্র্যাবার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টস এর উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি জনাব আবুল খায়ের। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে প্রতিভাবান মাথাগুলোকে একসঙ্গে না করে কোনো বিভাগেই দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বইটি পড়লে ও ছবিগুলো দেখলে বাংলাদেশের স্থাপত্যের গৌরব, স্থাপত্যের ধারা সম্পর্কে পরিচিত হওয়া যায়। মাহফুজ আনাম বলেন, আমাদের যা ভূমি রয়েছে তার প্রতিটি ক্ষেত্র আমাদের পরিকল্পনা করে খরচ করতে হবে। মানুষের তুলনায় আমাদের ভূমি কম। সে কারণে পাঁচ বছর দশ বছরের পরিকল্পনা দিয়ে হবে না। আমাদের শত বছর তারও বেশি সময়ে পরিকল্পনা দরকার। শুধু নিজেদের জন্য নয়, ভবিষ্যত প্রজন্মের কথাও আমাদের এখন ভাবতে হবে।

প্রদর্শনীর প্রধান নির্দেশক নিক্লস গ্রাবার বাংলাদেশের স্থপতিদের স্বকীয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং অন্য দেশের স্থপতিরা বাংলাদেশ থেকে অনেক কিছু শিখবে বলেও মন্তব্য করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব গওহর রিজভি এই প্রদর্শনীর প্রসংশা করেন এবং বাংলাদেশের আধুনিক স্থাপত্যকলার অনুপ্রেরণা হিসেবে এদেশের সবুজ প্রকৃতির অবদান অবশ্যই আছে বলে মন্তব্য করেন।

ক্রিস্টোফার মেরিয়ান ভারল্যাগ প্রকাশিত এই বইয়ে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের বিখ্যাত ও নতুন ৬০টিরও বেশি স্থাপত্য প্রকল্প। প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া বাংলাদেশের স্থাপত্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইক্লোন শেল্টার (কক্সবাজার), বশিরুল হকের হোম অব স্টুডিও, শুকতারা রিসোর্ট, এসওএস ইয়ুথ ভিলেজ, রিভার ইরোশন প্রজেক্ট, শ্রীপুরের উতৎস ভিলেজ, গুলশান সোসাইটি মসজিদ, গাইবান্ধার ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার, উত্তরার বাইতুর রউফ মসজিদ, জল ও জঙ্গল পূবালী রিট্রিট প্রভৃতি। স্থাপত্য প্রকল্পগুলোর ছবি তুলেছেন স্থাপত্য আলোকচিত্রী ইউয়ান বান। বইটিতে অ্যাড্রিয়াস রুবি, নিক্লস গ্র্যাবার, কাজী খালিদ আশরাফ, সাইফ উল হক ও সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রবন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘বেঙ্গল স্ট্রিম:দ্য ভাইব্রান্ট আর্কিটেকচার সিন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রদর্শনীটি ২০১৭’র ডিসেম্বরে উদ্বোধনের পর ৬ মে ২০১৮ পর্যন্ত সুইজার্ল্যান্ডের বাসেল-এ সুইস আর্কিটেকচার মিউজিয়ামে চলবে। এর পর প্রদর্শনীটি ভ্রমণ করবে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি এবং যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ন গ্যালারিতে, এবং পরিশেষে এটি ঢাকায় আসবে ২০১৯ সালে। সুইস স্থপতি নিক্লস গ্রাবার সুইস আর্কিটেকচার মিউজিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের সমকালীন স্থাপত্যের সেরা উদাহরণগুলো নিয়ে ইউরোপে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেন।