ভাস্কর নভেরা আহমেদকে নিয়ে সেমিনার

বাঙাল মুলুকে, তৎকালিন পাকিস্তানে, আধুনিক ভাস্কর্যশিল্পের পথিকৃত নভেরা আহমেদ। জাতীয় শহীদ মিনারের নকশা প্রণয়নেও ছিলো তার ভূমিকা। প্রথিতযশা এই শিল্পীর জীবন ও কর্ম নিয়ে `The World of Novera Ahmed’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। গতকাল ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে সেমিনারে মূল বক্তা গ্রেগোয়া ডি ব্রুন্‌স এর পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, স্থপতি রবিউল হুসাইন, সাহিত্য সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ।

ভাস্কর নভেরা আহমেদের বৈচিত্র্যময় জীবন ও শিল্প প্রয়াস নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন তার স্বামী গ্রেগোয়অ ডি ব্রুন্‌স। শিল্পীর শৈশব স্মৃতি থেকে শুরু করে তার শিল্প প্রয়াসের অনেক ঘটনা তিনি স্মৃতি থেকে তুলে আনেন। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই ভাস্কর কেমন করে পশ্চিমা শিল্পের সংস্পর্শে এলেন সেই গল্পও বলেন তিনি। ‘শহীদ মিনারের নকশা প্রণয়নের মূল পরিকল্পনা ছিলো ভাস্কর নভেরা আহমেদের, এ কাজে তাকে সহায়তা করতে যুক্ত হন স্থপতি হামিদুর রহমান। কিন্তু কাজটি অসমাপ্ত রেখে বিদেশ চলে গেলে সেটি সম্পূর্ণ করেন হামিদুর রহমান’, দাবী করেন তিনি। ‘তিনি আজ বেঁচে নেই, কিন্তু তার শিল্পকর্মের মাঝে তিনি থেকে যাবেন’, বলেও মন্তব্য করেন জনাব ব্রুন্‌স।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী এসময় জানান, ভাস্কর নভেরা আহমেদের ১০টি চিত্রকর্ম এবং ১টি ভাস্কর্য জাতীয় জাদুঘরে দান করছেন গ্রেগোয়া ডি ব্রুন্‌স। এর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন দৈনিক প্রথম আলোর সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ।

বক্তব্য শেষে তপন নভেরা আহমেদকে নিয়ে বাঁগচী রচিত একটি গান গেয়ে শোনার প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর।

অনুষ্ঠানে শিল্পী শিবু কুমার শীল নির্মিতব্য একটি প্রামাণচিত্রের খণ্ডিত অংশ প্রদর্শন করা হয়।