মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের নিউ ওয়েভের প্রত্যাশায়…

মুক্তিযুদ্ধ- বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। এর মধ্য দিয়েই বাঙালি প্রথমবারের মতো নিজেদের একটি দেশ বা রাষ্ট্রের অধিকার লাভ করে। রাজা শশাঙ্কের ব্যতিক্রম বাদ দিলে, যার বাঙালিত্ব নিয়েও দ্বিধার অবকাশ আছে, এই মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়েই বাঙালি প্রথমবারের মতো নিজেদের শাসনের ক্ষমতা লাভ করে।

বাঙালির ইতিহাসের এমন তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় রুপালি পর্দায় রূপায়িত হবে, সেটা স্বাভাবিক তো বটেই, ভীষণভাবে কাম্যও বটে। এবং সেটা হয়েছেও। তবে সাড়ে চার দশকের পথ পরিক্রমা শেষে, সেই হওয়াটা পরিমাণগত ও গুণগত- দুই অর্থেই কাম্য পর্যায়ে পৌঁছেছে কিনা, এখন সময় এসে গেছে সেটা বিশ্লেষণ করারও। কারণ সেই বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করেই আমাদের নির্ধারণ করতে হবে, রুপালি পর্দায় মুক্তিযুদ্ধের রূপায়ণের ভবিষ্যত গতি-প্রকৃতি কেমন হতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের সংজ্ঞায়ন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ড্রাস্ট্রিতে ঘরানার বিভাজন বেশ অপরিচিত একটি বিষয়। মূলধারার প্রায় সব চলচ্চিত্রই ‘সামাজিক-অ্যাকশন’ নয়তো ‘রোম্যান্টিক-অ্যাকশন’ সিনেমা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। আর মূলধারার বাইরের চলচ্চিত্রগুলোকে বলা হয় ‘আর্ট ফিল্ম’। তেমনিভাবে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের আলোচনাও একটা অস্পষ্ট ধারণার নিরিখেই করা হয়। ধরে নেওয়া হয়, যে চলচ্চিত্রগুলোতে বিষয় হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ এসেছে সেগুলোই মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র।

 

অথচ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ধারায় যে কোনো বিচারেই ‘মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারা। কাজেই এই ঘরানার চলচ্চিত্রের সংজ্ঞায়ন অত্যন্ত জরুরি। সেটা খুব কঠিন কাজও নয়। কারণ চলচ্চিত্রে নেতৃত্ব দেওয়া পশ্চিমা বিশ্ব ‘ওয়ার ফিল্ম’ বা সমর-চলচ্চিত্রের সংজ্ঞায়ন করেই রেখেছে। অবশ্য ওয়ার ফিল্মের সংজ্ঞা তথা বিষয়বস্তুর পরিধি নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ আছে। তবে সামগ্রিকভাবে, ওয়ার ফিল্মের সংজ্ঞা হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে রাসেল আর্ল শাইনের সংজ্ঞা, যেহেতু তার সংজ্ঞাটি অনেকটাই বৃহত্তর অর্থে ও বৃহত্তর বিশ্লেষণের উপযোগী করে প্রদত্ত, “যুদ্ধের যে কোনো পর্যায়ে- যুদ্ধের প্রস্তুতি, কার্যকারণ, প্রতিরোধ, যুদ্ধ সংঘটন ও পরিচালনা, যুদ্ধকালীন দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা, যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতা ইত্যাদি যুদ্ধ-পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, গোয়েন্দা এবং সৈন্যদের ভূমিকা নিয়ে যে সব চলচ্চিত্রের আখ্যান আবর্তিত হয়, সেগুলোকেই ওয়ার ফিল্ম (সমর-চলচ্চিত্র) বলা হবে।”

আপাতত মতভেদের বিতর্ক এড়িয়ে এই সংজ্ঞাটিকে যদি মান হিসেবে ধরা যায়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রেরও একটি সংজ্ঞা পাওয়া সম্ভব- মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি, কার্যকারণ, প্রতিরোধ, মুক্তিযুদ্ধ সংঘটন ও পরিচালনা, মুক্তিযুদ্ধকালীন দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতা ইত্যাদি যুদ্ধ-পরিস্থিতিতে (বর্তমান) বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী এবং সৈন্যদের ভূমিকা নিয়ে যে সব চলচ্চিত্রের আখ্যান আবর্তিত হয়, সেগুলোকেই মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র বলা হবে।

 

সাড়ে চার দশক

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পেরিয়ে গেছে সাড়ে চার দশক। চলচ্চিত্রের কোনো নির্দিষ্ট ঘরানার বিকাশ ও পরিণত হয়ে ওঠার জন্য সময়টা নিতান্ত কম নয়। এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণমানুষের জীবনে প্রভাবের বিবেচনায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ধারায় এই সময়ে বিপুল পরিমাণ মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মিত হওয়ার কথা ছিল। প্রয়োজন তো ছিলই।

কিন্তু বাস্তবতা সে প্রয়োজনকে সম্পূর্ণত মেটানোর দাবি করতে পারে না। সংখ্যার বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের পরিমাণকে পাশ নম্বর দেওয়া যায় বটে, কিন্তু তা প্রত্যাশার তুলনায় অত্যন্ত কম। আর গুণগত বিচারে গেলে দৃশ্যটা বেশ করুণই হয়ে ওঠে। যদি মানসম্মত মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের হিসাব করতে বসা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সার্থক উপস্থাপনের হিসাব কষা হয়, তাহলে পাশ নম্বর পাবে খুব অল্প কিছু চলচ্চিত্র। তালিকাটা হয়ে আসবে অতি সংক্ষিপ্ত। মোদ্দা কথা, মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র এখনো খুব একটা পরিণত হয়ে উঠতে পারেনি। তবে অতি সম্প্রতি পরিণতিবোধটা আসতে শুরু করেছে।

কারুণ্যের কারণ ১: সার্বিক সমস্যা

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র কেন পরিমাণে প্রত্যাশা মেটাতে পারল না, কিংবা গুণগত উৎকর্ষতায় বেশিরভাগই কেন প্রত্যাশার চেয়ে পিছিয়ে থাকল যোজন ব্যবধানে, তার কারণ নিয়ে বিস্তর আলাপ করা যেতে পারে। সেই আলাপের একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে সেই সমস্যাগুলোই, যেসব কারণ আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ড্রাস্ট্রির পশ্চাৎপদতার জন্যও দায়ী।

কাজেই এই কারণগুলোর বিশদ বিবরণ না দিয়ে, বরং একটি ছোট্ট উদাহরণ দেওয়া যাক। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরের চার বছরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। এগুলোর মধ্যে রক্তাক্ত বাংলা (১৯৭২), বাঘা বাঙালী (১৯৭২), আমার জন্মভূমি (১৯৭৩), বাংলার চব্বিশ বছর (১৯৭৪) এবং আজো ভুলিনি (১৯৭৫) সিনেমাগুলো সম্পর্কে চিন্ময় মুৎসুদ্দী লিখেছেন, “মুক্তিযুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশ কিংবা যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ সম্পর্কে এসব ছবির নির্মাতাদের কোনো ধারণা আছে বলেই মনে হয় না। এই সময় তারা যা জেনেছে সেটা দখলদার বাহিনীর নারী ধর্ষণ আর ফূর্তিবাজি। এর নামে ছবিতে জুড়ে দেয়া হয়েছে অশ্লীল নৃত্যাবলী। ছবি দেখে মনে হয় দখলদার বাহিনীর নারী ধর্ষণই বুঝি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান ঘটনা।” এগুলো সম্পর্কে আলমগীর কবির লিখেছেন, “All these films contain, by and large, Bangladeshi cinema’s conventional ingreditents. … (They) appear to use the phenomenon of war time rape as substitute for similar acts when portrayed in a normal commercial Bengali movie.”

এই প্রবণতার কারণ যেমন ব্যাখ্যা করার অবকাশ রাখে না, তেমনি এই উদাহরণই বলে দেয়, কেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের ভাণ্ডার গুণগত মানে তো নয়ই, পরিমাণেও প্রত্যাশিত পরিমাণে সমৃদ্ধ হয়নি।

কারুণ্যের কারণ ২: রাজনৈতিক অচলায়তন

তবে এর বাইরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে। সেটি নিখাদ রাজনৈতিক কারণ। উপরে যে চার বছরের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, তার পরের ষোল বছরে বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক যাত্রা, সেটা মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রকে অনেকখানিই পিছিয়ে দিয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ইতিহাসের নির্মমতম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে, বাংলাদেশের রাজনীতি এক অন্ধকার যুগে প্রবেশ করে। শুরু হয় স্বৈরশাসনের অচলায়তন, পাশাপাশি স্বাধীনতা-বিরোধীদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন।

এর প্রভাব পড়ে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের ধারাতেও। আগের চার বছরে মুক্তিযুদ্ধের যতগুলো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল, পরের ষোল বছরে নির্মিত হয় তার অর্ধেক। সেই সময়ের বাস্তবতা সম্যক উপলব্ধির জন্য স্রেফ দুটো ঘটনা উল্লেখ করাই যথেষ্ট।

১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় হারুনর রশীদের মেঘের অনেক রং। চলচ্চিত্রটির কাহিনিতে মুক্তিযুদ্ধের সদর্থক উপস্থাপন রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় শিশুসহ নায়কের স্ত্রী হারিয়ে যায় এবং পাকিস্তানি আর্মির হাতে পড়ে। তখন পাক আর্মিরা তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। চলচ্চিত্রটি যখন সেন্সর বোর্ডের সদস্যদের সামনে প্রদর্শিত হচ্ছিল, বোর্ডের সদস্যরা এই দৃশ্যে খুবই অস্বস্তি বোধ করেন। এমনকি একজন সদস্য ক্ষেপে গিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলতে থাকেন, “না না ওরা বাঙালি মেয়েদের রেপ করেনি, এসব বানোয়াট গল্প।”

আবার কবীর আনোয়ারের সুপ্রভাত (১৯৭৬) চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যে দেয়ালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি টাঙানো ছিল। সেন্সর ছাড়পত্রের জন্য সেই ছবিটিকে অস্পষ্ট করে দিতে হয়।

মুক্তিযুদ্ধের প্রতি নেতৃস্থানীয়দের এই দৃষ্টিভঙ্গি কেবল মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের সংখ্যাই কমিয়ে দেয়নি, চলচ্চিত্রগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের উপস্থাপনকেও প্রভাবিত করে। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ শহীদুল হক খানের কলমীলতা (১৯৮১)। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গির এই চলচ্চিত্রটিতে রাজাকার-সদৃশ চরিত্র রাখা হয়েছে বটে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তাদের কোনো কর্মকাণ্ডেরই উল্লেখ করা হয়নি। কিংবা বলা উচিত করা যায়নি।

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের নবযাত্রা

অবশ্য এই ষোল বছরের সময়কালের শেষ দিকে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলন যেমন দুর্বার হয়ে উঠছিল, তেমনি একটু একটু করে শক্তিসঞ্চয় করছিল মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের ধারাও। তাই আশির দশকের শেষভাগে যখন দেশে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হাঁটি হাঁটি পা পা করে যাত্রা শুরু করল, সেখানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়মিত বিষয়বস্তু হিসেবে গৃহীত হতে লাগল। একে একে নির্মিত হলো আগামী (১৯৮৪), প্রত্যাবর্তন (১৯৮৬), সূচনা (১৯৮৮), ছাড়পত্র (১৯৮৮), বখাটে (১৯৮৯), দুরন্ত (১৯৮৯), পতাকা (১৯৮৯), একজন মুক্তিযোদ্ধা (১৯৯০), কালোচিল ৭১ (১৯৯০) প্রভৃতি।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনরাভিষেক ঘটে। সেই সঙ্গে দেশ সাংস্কৃতিক অচলায়তন থেকেও মুক্তি লাভ করে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের ধারা আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করে। নিয়মিত নির্মিত হতে লাগল মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র- আমরা তোমাদের ভুলব না (১৯৯৩), একাত্তরের যীশু (১৯৯৩), আগুনের পরশমনি (১৯৯৪), সিপাহী (১৯৯৪), মুক্তির গান (১৯৯৫), নদীর নাম মধুমতি (১৯৯৬), হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭), মুক্তির কথা (১৯৯৯), ইতিহাস কন্যা (২০০০) প্রভৃতি। ক্রমে নির্মাণের সংখ্যাও বাড়তে লাগল। যেমন ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালে নির্মিত হলো তিনটি করে।

অবশ্য এই নবযাত্রার শুরুর সময়েও গুণগত বিচারে পাশের চেয়ে ফেলের সংখ্যাই বেশি ছিল। তবে আস্তে আস্তে সে দৃশ্যপটের বদল ঘটতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে ক্রমশ পরিণতিবোধও আসতে শুরু করেছে। ইদানিং প্রায়ই এই ধারার সিনেমাগুলো মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক উপস্থাপনের অসম্ভব প্রচেষ্টা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে। বদলে উঠে আসছে মুক্তিযুদ্ধের মাইক্রো ন্যারেটিভ। সৈনিকদের বা জনযোদ্ধাদের পাশাপাশি বলা হচ্ছে সাধারণ মানুষের যুদ্ধের গল্পও। উদারহণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে গেরিলা (২০১১), মেঘমল্লার (২০১৪), অনিল বাগচীর একদিন-এর (২০১৫) মতো চলচ্চিত্রগুলোর নাম।

অতএব আশাবাদ

সামগ্রিকভাবে তো নয়ই, কোনো বিচারেই এখনো মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের ধারা আমাদের প্রত্যাশাকে ছুঁতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের আরও অসংখ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হওয়া প্রয়োজন। সেগুলোতে উঠে আসার জন্য ইতিহাসের পাতায় গড়াগড়ি খাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের অজস্র সিনেমাটিক সত্য কাহিনি। তবে আশাবাদটাও আবার ঠিক এই কারণেই। নির্মাণের ধারা যেহেতু পরিপুষ্ট হচ্ছে, গল্পেরও যখন অভাব নেই, সাথে রাজনৈতিক পরিবেশ ও দর্শকের অভিরুচি দুই-ই যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের পক্ষে অনুকূল, তখন মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের এই নবযাত্রা নিয়ে আশাবাদী হওয়াই যায়। আশা করাই যায় যে, কয়েক দশক পরে যখন আমাদের চলচ্চিত্রের এই ধারা নিয়ে কাঁটা-ছেঁড়া করা হবে, তখন মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের এক সত্যিকার নবযাত্রা বা নিউ ওয়েভ চিহ্নিত করা যাবে।