শেষ হলো ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’

পর্দা নামলো বাংলা ভাষাভাষী চলচ্চিত্র নিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় আসর। ফেব্রুয়ারি মানেই মাসব্যাপী বইমেলা, পহেলা ফাল্গুন, ভালবাসা দিবস, আর্ট সামিট। সেখানে নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি উপস্থাপনের অন্যতম আদর্শ মাধ্যম চলচ্চিত্র নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ আয়োজিত ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’ শীর্ষক চলচ্চিত্র উৎসব ভাষা আন্দোলনের মাসে অন্য এক মাত্রা যোগ করে।

‘সুস্থ্ চলচ্চিত্র, সুস্থ্ দর্শক’ স্লোগান সামনে রেখে গত ৬ দশক ধরে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে যুক্ত আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ। সংগঠনটি গত বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র নিয়ে ১৭তম আয়োজনটি সমাপ্ত করলো গত ১৭ তারিখ, শনিবার। উৎসবটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাত্র শিক্ষক মিলনায়তনে শুরু হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি।

সিনেমা হলের পুরনো গৌরবের অংশ হতে না পারলেও এই উৎসবের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম ফিরে যেতে পেরেছিল সেই সময়ে। টিভি বা কম্পিউটারের পর্দা থেকে মুখ সরিয়ে তারা মুখোমুখি হয়েছিল বড় পর্দায় সেই সব ধ্রুপদী চলচ্চিত্রগুলোর। আলমগীর কবিরের সূর্যকন্যা, ঋত্ত্বিক ঘটকের যুক্তি তক্কো আর গপ্পো কিংবা সত্যজিৎ রায়ের মহানগর তন্ময় হয়ে দেখেছেন। এ ছাড়াও সমসাময়িক চলচ্চিত্রের মধ্যে প্রদর্শিত হয়েছে গহীন বালুচর, নবাব, ডুব, হালদা, খাঁচা, রীনা ব্রাউন কিংবা ভূবন মাঝির মতো চলচ্চিত্র। ছিলো পশ্চিমবাংলার সিনেমা শব্দ এবং আবহমানঘুড্ডি, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, আলোর মিছিলের মতো দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রও প্রদর্শিত হয়েছে এবারের উৎসবে। হলভর্তি দর্শক প্রায় সপ্তাহব্যাপী তন্ময় হয়ে পান করেছে চলচ্চিত্রসুধা। এই উৎসবে ছেলে-বুড়ো, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত।

পোস্টার প্রদর্শনী দেখছেন দর্শনার্থীরা

উপমহাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রকার হীরালাল সেনের নামানুসারে দ্বিতীয়বারের মতো ‘হীরালার সেন পদক’ প্রদান করা হয়েছে এই ইৎসবে। মনোনীত পাঁচটি চলচ্চিত্রের মধ্যে এবছর সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে ‘হীরালাল সেন পদক’ জিতে নেয় তোকির আহমেদ পরিচালিত হালদা । প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর পাড়ের মানুষদের জীবন সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। পদকজয়ী তৌকিরের হাতে তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর বাইরেও উৎসব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় পোস্টার প্রদর্শনী। বিভিন্ন সময়ের ধ্রুপদী বাংলা চলচ্চিত্রের পোস্টার প্রদর্শনীর পাশাপাশি উৎসব প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছিল বর্ণিল আলোকসজ্জা ও আলপনা দিয়ে।

হীরালাল সেন পদক নিচ্ছেন তৌকির আহমেদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি স্থাপনা, প্রতিটি চত্ত্বর ভাষা আন্দোলনের সাক্ষী। তাই চলচ্চিত্রের মতো শক্তিশালী মাধ্যমে এ ভাষার গৌরব ও ঐশ্বর্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম পুরোনো এই সংগঠন।