অনিশ্চিত জীবনের দোটানা

মিয়ানমারে বসবাসরত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জাতি’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাদের উপর হওয়া অবিচার এই আখ্যানকে করেছে আরও জোরদার। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ২৫ আগস্ট, ২০১৭-এর পর মিয়ানমার থেকে ৬,১৭,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে যার সিংহভাগই শিশু, নারী ও বৃদ্ধ। বিপজ্জনক সব জংলা পথ কিংবা নাফ নদী পাড়ি দিয়ে তারা এসেছে জীবন বাঁচানোর তাগিদে। এরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, আবার অনেকেই মিয়ানমারে গণহত্যার সময় মিলিটারির ছোঁড়া গুলির ক্ষত বয়ে নিয়ে এসেছে শরীরে। বাংলাদেশ এই শরণার্থীদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, দিয়েছে আশ্রয়। বাঙালি জানে শরণার্থী জীবনের দুঃসহ বেদনা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি শরণার্থীর জীবনের সঙ্গে যেন মিলে যায় আজকের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনিশ্চিত গন্তব্যও। কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোই এখন তাদের মাথার ওপর একমাত্র ছাদ হয়ে আছে। তাদের জীবন এবং সংসার একেবারেই অনিশ্চিত। তাদের ভবিষ্যৎ কি? অনিশ্চিত জীবনের এই কঠিন দোটানা আর কতদিন বয়ে বেড়াতে হবে ওদের? এসব প্রশ্ন সামনে রেখেই ৯ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে আলোকচিত্রশিল্পী সুমন পালের ‘অনিশ্চিত জীবনের দোটানা’ শিরোনামে একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে অবস্থিত ইএমকে সেন্টারে এ প্রদর্শনী চলবে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

৯ ডিসেম্বর, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রশিল্পী আবীর আবদুল্লাহ এবং ইএমকে সেন্টারের পরিচালক এম কে আরেফ প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন।

ছবি: সুমন পাল

সুমন পাল নিজেকে প্রকাশ করেন তার ক্যামেরার ভাষায়, আর সেই ভাষাই ফ্রেমে বন্দি হয়ে এই প্রদর্শনীর উদ্যোগ, উদ্দেশ্য সকলের মাঝে এই প্রশ্নগুলো ছড়িয়ে দিয়ে উত্তর খোঁজা। সুমন পালের জন্ম ১৯৮৪ সনে, কক্সবাজারে, বেড়ে উঠেছেন সেখানেই। শুরুর দিকে কেবল শখের বশে নিজের আশেপাশের মানুষগুলোর জীবনযাত্রার ছবি তুলতে তুলতে আজ তিনি একজন পুরোদস্তুর ডক্যুমেন্টারি আলোকচিত্রী। পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইন্সটিটিউট থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছেন অটিজম, মানসিক প্রতিবন্ধী, জেলেদের বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা নিয়ে। কখনোবা বুড়িগঙ্গার ঘাট ধরে ক্যামেরার চোখে তুলে এনেছেন রংবেরঙের মানুষের জীবনের চিত্র। ২০১৩তে মিশরের কায়রোতে সুফি নাচের দল আল-তানোরা ট্রুপের ওপর একটি বিশেষ কাজ করেন সুমন পাল। তার সাম্প্রতিকতম আলোকচিত্রের বিষয় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনিশ্চিত জীবনের গল্প।

ছবি: সুমন পাল

প্রদর্শনী চলবে আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত ৮টা।