অশোকের পানে

সংস্কৃত কাব্যে অশোক প্রেমের প্রতীক। তাই রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘তোমার অশোকে কিংশুকে/ অলক্ষ্য রঙ লাগল আমার/ অকারণের সুখে।’

ছায়াময় কোনো অশোক বৃক্ষের পদতলে জন্মেছিলেন এক রাজকুমার- সিদ্ধার্থ। বোধিপ্রাপ্তির পর যার পরিচয় হয়েছিল গৌতম বুদ্ধ নামে। ফলত বৌদ্ধ এবং কালক্রমে হিন্দু ধর্মে অতি পবিত্র বৃক্ষ হিসেবে পূজনীয় হয়ে উঠেছে অশোক। জনশ্রুতি আছে, গৌতম বুদ্ধের জন্মমুহূর্তে তাঁর মা রানী মায়াদেবী দক্ষিণহস্তে অশোক বৃক্ষের একটি ডাল আঁকড়ে ধরেছিলেন। কাল পরিক্রমায় ভারতে তাই অশোক উর্বরতার প্রতীক। প্রকৃতি ছাড়াও আমাদের দৈনন্দিন সমাজ-ইতিহাস-পুরাণ-সাহিত্যচর্চায় এই চিরহরিৎ বৃক্ষের অধিষ্ঠান আজও অত্যন্ত সজীব, তাৎপর্যমণ্ডিত।

প্রাচীন আবাস দক্ষিণাত্যের মালভূমি হলেও পূর্ব ভারতের বাংলাসহ ভারতবর্ষজুড়েই অশোকের দেখা পাওয়া যায়। বহুবর্ষজীবী এ উদ্ভিদকে ক্যারোলাস লিনিয়াসের ভাষায় বলতে হয় উচ্চতায় সর্বোচ্চ ১৮ ফুট পর্যন্ত পৌঁছালেও কাণ্ড তুলনামূলক কোমল।

উজ্জ্বল-সুশোভিত গুচ্ছফুলের জন্যই দূর থেকেও অশোক দৃষ্টি কাড়ে। দুই জোড়া পাপড়ির গোড়া থেকে চার জোড়া দীর্ঘ পরাগকেশর বের হয়। ফুলের রং মূলত গাঢ় কমলা, যা ঝরে যাবার আগে লাল বর্ণে রূপান্তরিত হয়। পত্রগুচ্ছশীর ছাড়া মূল কাণ্ড থেকেও অশোক ফোটে। শীতকালের অন্তিমে, সমগ্র বসন্তকাল এবং হেমন্তের কিছুকাল ধরে অশোক পুষ্পশোভা ছড়ায়। পরিণতির আখ্যানে পরিস্ফুটিত ফলের রং হয় বেগুনি, আকৃতি শিমের মতো। পাতা লম্বাটে, গাঢ় সবুজ, শিরা ঈষৎ অবনমিত এবং স্পষ্ট। ঔষধি গুণ এবং বনানীর শোভাবর্ধক বৃক্ষ হলেও আইইউসিএনের লাল তালিকায় এটি বিপদগ্রস্ত প্রজাতি হিসেবেই নির্ধারিত।

 

ছবি: লেখক