আগা খান পুরস্কার জিতলেন দুই বাংলাদেশি স্থপতি

স্থাপত্যশিল্পে বাংলাদেশের রয়েছে গৌরবময় ঐতিহ্য। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী এবং পাল আমলে ৪১১ বছরব্যাপী ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়েছিল এই শিল্প। এরপর সুলতানি আমলেও শিল্প-সাহিত্য-স্থাপত্যের ব্যাপক উন্নতি হয়। বাঙালি স্থপতি বিদ্যাধর ভট্টাচার্য রাজা দ্বিতীয় জয়সিংয়ের আমলে জয়পুর শহরের নগর পরিকল্পনা করেছিলেন। তাজমহলের দেয়ালেও সূর্য  ও অপূর্ব নকশায় পাওয়া যায় বাঙালি কারুশিল্পীদের ছোঁয়া। এসব সোনালি সূত্রের পরম্পরা ইংরেজ আমল থেকে ধীরে ধীরে ছিন্ন হতে থাকে এবং তা পাকিস্তানি আমলের দীর্ঘ সামরিক শাসনকালে আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। ইংরেজ আমলে প্রথমবারের মতো ঢাকায় ইউরোপীয় স্থাপত্যের সূচনা হয়। তার ফলে একধরনের মিশ্র স্থাপত্যকলা অনুসৃত হতে থাকে। এই ধারা এখনকার বাংলাদেশের স্থাপত্যশিল্পেও পরিলক্ষিত হয়। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেলে ভিন্ন ধরনের ভবন নকশা করে সম্প্রতি আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার জিতেছেন দুই বাংলাদেশি স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুম এবং কাশেফ মাহবুব চৌধুরী।

 

গাইবান্ধার ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার

বাংলাদেশের দুই স্থপতির নকশায় গড়া ঢাকার বায়তুর রউফ মসজিদ এবং গাইবান্ধার ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার জিতে নিয়েছে সম্মানজনক আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার। স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুমের করা বায়তুর রউফ মসজিদের নকশায় রয়েছে সুলতানি স্থাপত্যের অনুপ্রেরণা। আর ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের নকশায় স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরী এনেছেন মহাস্থানগড়ের আবহ।
বিশ্বের ৩৪৮টি স্থাপত্যকর্ম থেকে জুরিদের বাছাই করা ১৯টি স্থাপনার সংক্ষিপ্ত তালিকায় এই দুজন বাংলাদেশি স্থপতির নাম এসেছিল এ বছরের মে মাসে। চূড়ান্ত বিচার শেষে গত ৩ অক্টোবর আবুধাবিতে এবারের ছয় বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

 

গাইবান্ধার ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার

বিদেশিদের নকশায় গড়া বাংলাদেশের তিনটি স্থাপত্যকর্ম এর আগে ত্রিবার্ষিক এ পুরস্কার পেলেও মেরিনা ও কাশেফ প্রথম বাংলাদেশি, যাঁরা আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার পেলেন। উল্লেখ্য, দুজন স্থপতিই বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস ও সেটেলমেন্টসের সঙ্গে যুক্ত আছেন প্রতিষ্ঠানটির যাত্রার শুরু থেকেই। ডিরেক্টর, অ্যাকাডেমিক হিসেবে কাজ করছেন মেরিনা তাবাশ্যুম এবং প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী বোর্ডের সদস্য হিসেবে আছেন কাশেফ মাহবুব চৌধুরী। এই দুজন স্থপতি যৌথভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের  স্বাধীনতাস্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘরের নকশা করেছেন।
গত নভেম্বরে আবুধাবির ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট আল জাহিলি ফোর্টে এবারের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।