ঈদে বেঙ্গলের ৬টি নতুন অ্যালবাম

বাংলা গানের বিপুল সম্ভারকে সুশীল শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে এই ঈদে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন প্রকাশ করেছে নতুন কিছু গান। বানিজ্যের ভীষণ প্রতাপে উচ্চকিত গানের তাণ্ডবে আবহমান শুদ্ধ বাংলা গান আজ সংশয়ে কম্পমান। এই অস্থিরতার ভেতর থেকেও বাংলা গানের বিপুল সম্ভারকে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে চায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এবং প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ শিল্পীদের কণ্ঠে ধারণ করা চিরায়ত বাংলাগানের মোট ৬টি অ্যালবাম একত্রে প্রকাশ করেছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। শিল্পীদের মধ্যে আছেন রথীন্দ্রনাথ রায়, চন্দনা মজুমদার ও সুস্মিতা দেবনাথ শুচির মতো প্রতিশ্রুতিশীল কণ্ঠশিল্পী।

রথীন্দ্রনাথ রায়ের কণ্ঠে ভাওয়াইয়া গান ধরলা নদীর পারে

মোট ১০ গান নিয়ে এই অ্যালবাম। অ্যালবামটিতে সংকলিত গানের মধ্যে আছে, ‘ও কি ও বন্ধু কাজল ভ্রমরা’, ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই’, ‘ফান্দে পড়িয়া বগা’, ‘বাপুই চেংড়া রে’, ‘আজি কিবা কথা কইনেন’, ‘বাওকুমটা বাতাস যেমন’, ‘ও মোর সোনার কন্যারে’, ‘রাগ করেন না সোনার কন্যা’, ‘দিন চারিক্ তোর বসত্ করা রে’ এবং ‘গোলাম ডাংগালু রে’। এতে যন্ত্রানুষঙ্গ পরিচালনা দূর্বাদল চট্টপাধ্যায়।

চন্দনা মজুমদারের কণ্ঠে রাধারমণের গান প্রাণবন্ধু বিহনে

দূর্বাদল চট্টোপাধ্যায়ের যন্ত্রানুষঙ্গে ১০টি গান স্থান পেয়েছে এই অ্যালবামে। অ্যালবামের গানগুলো হলো, ‘জলে যাইয়ো না গো রাই’, ‘আমি কৃষ্ণ কোথায় পাই’, ‘শ্যাম তুমি আও না কেনে’, ‘আমার প্রাণ যায় প্রাণবন্ধু বিহনে’, ‘বিপদ ভঞ্জন মধুসূধন নামটি’, ‘এমন মায়ার কান্দন’, ‘শ্যাম দেও আনিয়া বৃন্দে’, ‘যাও রে ভ্রমর উড়িয়া’, ‘আমারে বন্ধুয়ার মনে নাই’ এবং ‘ভ্রমর কইয়ো গিয়া’।

শিমু দের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান তোমায় আমায় মিলে

‘পুরানো জানিয়া চেয়ো না’, ‘কেন আমারে পাগল করে যাস’, ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই’, ‘কে বসিলে আজি হৃদয়াসনে’, ‘আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলেম গান’, ‘যাবার বেলা শেষ কথাটি যাও বলে’, ‘ফুল বলে, ধন্য আমি মাটির পরে’, ‘তোমার হল শুরু’ সবমিলে ৭টি গান দিয়ে সাজানো হয়েছে অ্যালবামটি। এর যন্ত্রানুষঙ্গ পরিচালনা করেছেন হিমাদ্রী শেখর।

সুস্মিতা দেবনাথ শুচি এবং মোহিত খানের কণ্ঠে নজরুলের গান নয়নের সেই সাধ

অ্যালবামটির যন্ত্রানুষঙ্গ পরিচালনা করেছেন দূর্বাদল চট্টোপাধ্যায়। অ্যালবামে শিল্পীদ্বয়ের ৪টি করে মোট ৮টি গান স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে সুস্মিতা দেবনাথ শুচি গেয়েছেন, ‘উচাটন মন ঘরে রয় না’, ‘সখি সাজায়ে রাখ্ লো’, ‘মনে পড়ে আজ’, ‘একি অসীম পিয়াসা’ এবং মোহিত খান কণ্ঠ দিয়েছেন ‘শাওন আসিল ফিরে’, ‘বরষা ঐ এলো বরষা’,  ‘মেঘ-বরণ কন্যা থাকে’, এবং ‘এ কোন মায়ায় ফেলিলে আমায়’ গানগুলোতে। দ্বৈতকণ্ঠে তাঁরা নিবেদন করেছেন ‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়’।

অভয়া দত্তের কন্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান আলোক মালার সাজে

অ্যালবামে গানের মধ্যে আছে, ‘আমি যে আর সইতে পারি নে’, ‘বাজিল, কাহার বীণা মধুর স্বরে’, ‘আজি এ নিরালা কুঞ্জে’, ‘বজাও রে মোহন বাঁশি’, ‘ওগো কিশোর, আজি তোমার দ্বারে’, ‘দূরদেশী সেই রাখাল ছেলে’, ‘দিনশেষের রাঙা মুকুল জাগল চিতে’, ‘আমার একটি কথা বাঁশি জানে’। যন্ত্রানুষঙ্গ পরিচালনা করেছেন দূর্বাদল চট্টপাধ্যায়।

শুক্লা পাল সেতুর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান কাছে যবে ছিল

প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যন্ত্রানুষঙ্গ পরিচালনায় রবীন্দ্রনাথের ৮টি গান রয়েছে এই অ্যালবামে। গানগুলো হলো, ‘খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি’, ‘তুমি যে আমারে চাও’, ‘আজ সবার রঙে রঙ মিশাতে হবে’, ‘আমি এলেম তারি দ্বারে’, ‘কাছে যবে ছিল’, ‘এখনো তারে চোখে দেখি নি’, ‘আমি রূপে তোমায় ভোলাব না’ এবং ‘আমার এ পথ’।

দেশের বিভিন্ন স্থানেই পাওয়া যাবে অ্যালবামগুলো। ঢাকা থেকে কেনা যাবে আজিজ সুপার মার্কেটে সুরের মেলা, সুর কল্লোল, প্যাপিরাস, পাঠক সমাবেশ; নিউমার্কেট-সংলগ্ন গানের ডালি; এলিফ্যান্ট রোডে গানের ভুবন; বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের গীতাঞ্জলি; বনানী ও ধানমন্ডি অরণ্য ক্রাফট্স, বেঙ্গল বই; ধানমন্ডি রাপা প্লাজা হলিউড; বেইলি রোডে সাগর পাবলিশার্স; গুলশান-১ কুমুদিনী হ্যান্ডিক্রাফট্স; চট্টগ্রাম বাতিঘর ও লালখান বাজারে রাগেশ্রী; সিলেট বইপত্র জিন্দাবাজার ও অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্র থেকে।