উইংস অব হোপ

বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে গত ২১ এপ্রিল শুরু হয় ৪ দিনব্যাপী ‘উইংস অব হোপ’ শীর্ষক নারীর ক্ষমতায়ন উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে চার দিনব্যাপী চিত্রকলা ও ভাস্কর্য প্রদর্শনী। ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার দিন প্রদর্শনী সমাপ্ত হয়। এ দেশের স্মরণকালের অন্যতম হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ১৩৮ জন এবং আহতের সংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি। দিনটি স্মরণে তিনটি নরডিক দেশ- ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন অংশীদারি ভিত্তিতে এই চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্য প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশের নারী চিত্রশিল্পীদের সংগঠন সাকো, মীনা ই.ভি, আর্য চলচ্চিত্র ফাউন্ডেশন এবং ফ্যাশন রেভল্যুশনের সঙ্গে।
বাংলাদেশে অবস্থিত নরডিক দূতাবাসগুলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপনের অংশ হিসেবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। দূতাবাসগুলো বাংলাদেশি এনজিও (বেসরকারি সংস্থা) ‘মীনা ই.ভি’র সঙ্গে অংশীদারি ভিত্তিতে এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া মানুষদের নিয়ে কাজ করছে মীনা। সংস্থাটি ওই সব পোশাককর্মীকে নিয়ে একটি কর্মশালারও আয়োজন করে। সেই কর্মশালায় মোম দিয়ে ভাস্কর্য তৈরি করে এর মধ্য দিয়ে জীবনের প্রতি তাঁদের আকাঙ্ক্ষা ও অভিলাষ ফুটিয়ে তোলেন তাঁরা। পুরো কর্মশালার তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডেনমার্কের শিল্প-শিক্ষক এবং সাকোর শিল্পী কিরস্টেন ফুগো। মোমের তৈরি নির্বাচিত ভাস্কর্যগুলো পরবর্তীকালে ধামরাই মেটাল ক্র্যাফটসের সহায়তায় ধাতব ভাস্কর্যে পরিণত করা হয়। এই প্রদর্শনীলব্ধ অর্থ রানা প্লাজা দুর্গতদের নিজ পায়ে দাঁড়াতে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনে নিজস্ব সেলাই কারখানা স্থাপনে সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকভাবে এ কার্যক্রমের প্রতি তাঁর সহায়তার হাত অবারিত করেছেন। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া নারী পোশাককর্মীদের পুনর্বাসনে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর আগে অনুষ্ঠিত ওই পোশাককর্মীদের একটি প্রদর্শনী থেকে ভাস্কর্যও ক্রয় করেছে। প্রধানমন্ত্রী এই সংগ্রামী নারী পোশাককর্মীদের উদ্যোগের প্রতি এবং যাঁরা তাঁদের সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে এগিয়ে যেতে, তাঁদের প্রতি তাঁর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
এই প্রদর্শনীর অন্যতম লক্ষ্য প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও চলচ্চিত্রনির্মাতা খালিদ মাহমুদ মিঠুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন। মিঠু গত ৭ মার্চ এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন। এই প্রকল্পে অসামান্য অবদান রয়েছে মিঠু ও তাঁর ফাউন্ডেশনের। মিঠু ছিলেন বাংলাদেশে নারী অধিকারের পক্ষে সোচ্চার। এ ছাড়া রানা প্লাজা দুর্গতদের পাশে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর চিত্রকর্ম ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। মিঠুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই আয়োজনে তাঁর গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘ডেড হ্যান্ডরাইজিং’ প্রদর্শন করা হয়। এ প্রামাণ্যচিত্রে রানা প্লাজা ধসের বীভৎসতা ও মর্মান্তিকতা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন মিঠু। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শন করা হয়।
২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শন করা হয় তথ্যচিত্র ‘ট্রু কস্ট’। এ তথ্যচিত্রের বিষয় বিশ্বে মানবজাতির ওপর ফ্যাশনের প্রভাব।
ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ (কেসিএমজি) এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল তিনটি নরডিক দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যৌথভাবে এ প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন।