কথাসাহিত্যিক শওকত আলী আর নেই

আজ, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শওকত আলী। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

গত ৪ জানুয়ারি ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হলে শওকত আলীকে ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ৬ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয় তাকে।

শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সারাজীবন শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জীবনযাপন করেছেন তিনি। সরকারি সঙ্গীত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নিয়ে রাজধানীর হাটখোলায় নিজ বাসভবনে বাস করতেন নিভৃতচারী এই লেখক।

শওকত আলীর কর্মজীবন শুরু ১৯৫৫ সালে দৈনিক মিল্লাতে সাংবাদিক হিসেবে। ১৯৫৮ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন দিনজাপুরের একটি স্কুলে। ১৯৬২ সালে জগন্নাথ কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন শওকত আলী। এর আগে বিভিন্ন পত্রিকা, ম্যাগাজিনে লেখালেখি চালালেও ঢাকায় আসার পর লেখালেখির প্রসার ঘটে তার। ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস পিঙ্গল আকাশ

বাঙালি সমাজব্যবস্থার ক্রমপরিবর্তন নিয়ে যে কজন লেখক কাজ করেছেন, শওকত আলী তাদের মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন দশকে বাঙালি মধ্যবিত্তের চিন্তাধারার পরিবর্তনও উঠে এসেছে তার লেখনীতে। একাধারে লেখক, সাংবাদিক ও শিক্ষক শওকত আলী রেখে গেছেন প্রদোষে প্রাকৃতজন (১৯৮৪), দক্ষিণায়নের দিন (১৯৮৫) আর পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৮৬), উত্তরের খেপ (১৯৯১), শেষ বিকেলের রোদ (২০০১)- এর মতো কালজয়ী উপন্যাস।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেন শওকত আলী। উপন্যাসত্রয়ী দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত এবং পূর্বরাত্রি পূর্বদিনের জন্য তিনি ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তার এসব উপন্যাসে মূলত ষাটের দশকে বাঙালি মধ্যবিত্ত এবং সমাজব্যবস্থায় ধ্যান-ধারণা, চিন্তা ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের ধারা উঠে এসেছে।

সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান শওকত আলী এবং ১৯৯০ সালে ভূষিত হন একুশে পদকে। তার সৃষ্ট সাহিত্যকর্মের মাঝেই তিনি চিরকাল অমর হয়ে রইবেন।

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত