কিংবদন্তীর চিত্রায়ণ ‘লেজেন্ড অব দ্য লুম’

শত শত কিংবদন্তী রচনা করে হারিয়ে গেছে মসলিন। একনামেই বিশ্বের কাছে পরিচিত অত্যন্ত মিহি এই কাপড়। মহাভারতে মসলিনের উল্লেখ পাওয়া গেলেও সমৃদ্ধির চূড়ায় ওঠে মোঘল আমলে। আরব-ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের হাত ধরে বিশ্বের সম্ভ্রান্তদের প্রিয় হয়ে ওঠে এই কাপড়। তারপর আসে ব্রিটিশ উপনিবেশ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিপীড়ণ আর দমনে হারিয়ে যায় বিখ্যাত ঢাকাই মসলিন। সেই মসলিনের ইতিহাস, গুরুত্ব এবং প্রযুক্তি খুঁজতে গিয়ে নির্মিত হয়েছে ৪৩ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্র লেজেন্ড অব দ্য লুম ।

সাইফুল ইসলামের গবেষণাকর্মকে আশ্রয় করে তৈরি হয়েছে প্রামাণ্যচিত্রের কাঠামো। তিনি নিজেই এই চিত্রের অন্যতম কথক। পুরোনো ছবি, ঐতিহাসিক দলিল, বিভিন্ন বইয়ের রেফারেন্সসহ দেশি-বিদেশী বিশেষজ্ঞের সাক্ষাতকারের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে মসলিনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব। ঐতিহাসিত তথ্য উপস্থাপনে চিত্রকর্মের এনিমেশনের ব্যবহার কাহিনী বর্ণনাকে আরও প্রাঞ্জল করে তুলেছে।

পুরোনো ছবি এবং নতুন ফুটেজ ব্যবহার করে দেখানো হয়েছে মসলিন নির্মাণের সুক্ষ্ম কৌশল। বোয়াল মাছের দাঁত ব্যবহার করে তুলা বাছাই করা, সুক্ষ্ম তাঁতযন্ত্রের মাধ্যমে সুতো বোনা এবং সেখান থেকে নকশা বের করে আনা এসব দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন জাদুঘরে রক্ষিত নিদর্শন এবং নতুন ধারণ করা চিত্রের মাধ্যমে। মসলিনের কারিগরেরা কত সৃজনশীল এবং দক্ষ ছিল তাই জীবন্ত হয়ে আছে এই চিত্রে।

মসলিনের সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন করে মসলিন ফিরিয়ে আনার যে চেষ্টা দৃক এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশন করে যাচ্ছে তারও বর্ণণা দেওয়া আছে প্রামাণ্যচিত্রে। জিনকৌশলের মাধ্যমে নতুন করে চাষ করা হচ্ছে ‘ফুটি কার্পাস’ তুলা। এছাড়াও বিভিন্ন জাতের তুলা গাছের মধ্যে বাছাইকৃত গাছের চাষ থেকে ভালমানের তুলার খুঁজে বের করার চেষ্টায় আছে গবেষকরা। বাংলাদেশ ও ভারতের যেসব অঞ্চলে এসব তুলার চাষ হতো সেসব অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণ করে গবেষকরা চাচ্ছেন সেই বিশেষ তুলার জাত ফিরিয়ে আনতে।

গবেষকরা আশা করছেন, হুবহু মসলিন না হলেও তার খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবেন অদূর ভবিষ্যতে। এই আশার বাণী-ই দক্ষভাবে চিত্রিত হয়েছে লেজেন্ড অব দ্য লুম প্রামাণ্যচিত্রে।

ইংরেজি ভাষায় বর্ণিত এ প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মান করেছে টিনাইনএফএক্স নামের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এটি নির্মাণে দৃকের পাশাপাশি সহযোগীতা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং আড়ং।