কিরণ চন্দ্র রায়ের পদাবলি কীর্তন

বাঙালি সংস্কৃতির এক বিশিষ্ট সংগীতশৈলী কীর্তন। ঈশ্বরের নাম, গুণ ও লীলাবিষয়ক পদাবলি সুর ও তালবদ্ধ হয়ে উচ্চকণ্ঠে গীত হয় এই সংগীত। সাধারণত রাধাকৃষ্ণের লীলা ও গৌরাঙ্গের জীবনগাথার বিভিন্ন পর্যায় অবলম্বনে কীর্তন রচনা করা হয়। কীর্তনের তাল রচনায় স্বকীয়তা আছে, কীর্তন করতাল ও খোলসহযোগে গীত হয়।

বাঙালি সংস্কৃতির প্রাচীন গানের ধারা পদাবলি কীর্তনের অ্যালবাম মেঘ যামিনী প্রকাশিত হয় গত ২৯ অক্টোবর। লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়ের এই একক অ্যালবামটি নিবেদন করেছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। গীতিকবি বিদ্যাপতি, গোবিন্দ দাস, দ্বিজচণ্ডী দাস, জ্ঞান দাস, বলরাম দাস ও যদুর সেই গানগুলো নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে নতুন এই অ্যালবাম।
ডেইলি স্টার-বেঙ্গল আর্টস প্রিসিঙ্কট-এ একটি অনুষ্ঠানে অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।
মোড়ক উন্মোচন পর্ব শেষে শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায় ‘আজু রজনী হম ভাগে’ গানটি দিয়ে সংগীত পরিবেশন শুরু করেন। এরপর ‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু’সহ বেশ কিছু গান পরিবেশন করেন তিনি। শিল্পীর সঙ্গে যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন বাঁশিতে মনিরুজ্জামান, বেহালায় সুনীল চন্দ্র দাস, খোলে গৌরব সরকার, করতালে একরাম হোসেন।
মেঘ যামিনী অ্যালবামে রয়েছে ‘মাধব বহুত মিনতি করি’, ‘ঢলঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণী’, ‘সই, কেবা শুনাইল শ্যাম নাম’, ‘রূপ লাগি আঁখি ঝুরে’, ‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু’, ‘গোঠে আমি যাব মা গো’, ‘মেঘ যামিনী চললি কামিনী’সহ দশটি গান। অ্যালবামটির যন্ত্রানুষঙ্গ পরিচালনা করেছেন দূর্বাদল চট্টোপাধ্যায়।
সম্প্রতি সৃজনশীল বাংলা গানের আরও দুটি অডিও সিডি প্রকাশ করেছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। অ্যালবাম দুটি হচ্ছে জয়িতার কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম কত মধু সমীরে এবং সুকান্ত চক্রবর্তী ও অভিজিৎ মজুমদারের কণ্ঠে দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের সংকলন আমার বেদনা লহ বুঝি