কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ প্রদর্শনী

দীর্ঘ ২২৮ বছর পর ঠিকানা বদল হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের। বন্দি স্থানান্তরের পর ইট-পাথরের কঙ্কালজুড়ে পড়ে থাকে কেবলই স্মৃতি। রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগার এখন ইতিহাসের প্রামাণ্য দলিল। কারণ, এই কারাগারেই অনেকগুলো বছর কেটেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। এই কারাগারেই ঘটেছে জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাযজ্ঞ।
স্মৃতির নিদর্শন স্বরূপ দুটি জাদুঘর ও পুরোনো কারাগারকে সাজানো হচ্ছে নতুনভাবে। পুরোনো এই জেলখানার ইতিহাসকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে নেওয়া হয়েছে অভিনব এক উদ্যোগ। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জার্নির সহায়তায় বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তর আয়োজন করে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর। গত ১ নভেম্বর ‘সংগ্রামী জীবনগাথা’ শীর্ষক এ প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খানসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।
পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে ছিল বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তারা ঐতিহাসিক স্থাপনা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। দুর্লভ এসব আলোকচিত্রের মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতার জীবনসংগ্রাম ও গৌরবোজ্জ্বল রাজনৈতিক জীবনের টুকরো টুকরো ইতিহাস। ছিল কারাবন্দি অবস্থায় লেখা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার বিভিন্ন চিঠি। স্বাধীনতাসংগ্রাম এবং স্বাধীনতার পরের সময়ে তাঁদের ক্লান্তিহীন কর্মযজ্ঞের নানা আলোকচিত্রও স্থান পায় প্রদর্শনীতে। মোট ১৪৫টি দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শিত হয় এখানে। জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে কারা অধিদপ্তর ও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘জার্নি’। ৭৫টি ফ্রেমে সাজানো হয় আলোকচিত্রগুলো।
২২৮ বছরের ইতিহাসে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবারই প্রথম কোনো উন্মুক্ত অনুষ্ঠান ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হলো।
প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করা হবে কারাগারে মায়ের সঙ্গে বন্দি থাকা শিশুদের কল্যাণে। তাদের জন্য খেলনাসামগ্রীসহ বিভিন্ন দ্রব্য ক্রয় করার কথা রয়েছে এ অর্থ দিয়ে।