চলছে হামিদুজ্জামান খান-এর একক প্রদর্শনী

ভাস্কর- তাঁর প্রথম পরিচয়। তবে পুরোদস্তুর শিল্পীর মতোই জলরং আর তেলরঙেও ক্যানভাস রাঙান শিল্পী হামিদুজ্জামান। প্রকৃতি, মানুষ এবং এ দুয়ের মিথস্ক্রিয়া ফুটে ওঠে তার মূর্ত-বিমূর্ত শিল্পভাবনায়। বাংলাদেশের ভাস্কর্যশিল্পের অন্যতম পুরধা এ শিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আয়োজন করেছে হামিদুজ্জামান খান রেট্রোস্পেকটিভ। গত ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে এ প্রদর্শনী।

গত শুক্রবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পসমালোচক ও লেখক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। হাশেম খানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন গবেষক ও লেখক মফিদুল হক, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহম্মদ আজিজ খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।
‘হামিদুজ্জামান খান: রেট্রোস্পেকটিভ’ শীর্ষক এ প্রদর্শনীতে শিল্পীর ১৯৬৪ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত গত ৫৩ বছরের বাছাই শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে শিল্পীর বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট প্রায় তিন শতাধিক ভাস্কর্য ও ২৫টি চিত্রকর্ম।
জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী মিলনায়তনের প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ভাস্কর্যের রেপ্লিকা। রয়েছে শিল্পীর নির্বাচিত চিত্রকর্ম। প্রদর্শনীতে ছোট বড় বিভিন্ন আকারের ক্যানভাসের পাশাপাশি দেখা যাবে বিভিন্ন আকারের ভাস্কর্যও।

বহুমাত্রিক শিল্পমাধ্যমে সিদ্ধহস্ত হামিদুজ্জামান খান স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে আধুনিক ভাস্কর্যের প্রসার ও গ্রহণযোগ্যতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশে এ মাধ্যমটির উন্মেষ সাধনে যাদের নাম আসে, তাদের অন্যতম তিনি। তার ভাস্কর্য দেশে-বিদেশে স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত স্থানে স্থাপিত হয়। ফলে তিনি ব্যাপক আলোচিত ও ভাস্কর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পাশাপাশি হামিদুজ্জামান খান এ দেশে জলরঙের জন্যও জনপ্রিয়তা পান। হামিদুজ্জামান খান নিদিষ্ট ফর্ম ও আঙ্গিকে আটকে থাকেননি, বারবার নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন। নির্মাণ করেছেন অভিনব সব শিল্পকর্ম।

বাংলাদেশে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে এ প্রদর্শনী চলবে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত।