জয়িতার নতুন অ্যালবাম কত মধুসমীরে

ধানমন্ডিস্থ ছায়ানট মিলনায়তনে গতকাল ২ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফারহিন খান জয়িতার কন্ঠে ধারণ করা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের সংকলন নিয়ে কত মধুসমীরে শীর্ষক অ্যালবামটি প্রকাশিত হল। সিডির মোড়ক উন্মোচন করেন সংগীতজ্ঞ, শিক্ষক ও গবেষক ড. সন্‌জিদা খাতুন। উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হক। অ্যালবামটি নিবেদন করেছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন।

অনুষ্ঠানে শিল্পী ফারহিন খান জয়িতা সংগীত পরিবেশন করেন। শিল্পীর সঙ্গে যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন তবলায় এনামুল হক ওমর, কী-বোর্ডে রূপতনু, এসরাজে অসিত বিশ্বাস, মন্দিরায় প্রদীপ রায়।

অ্যালবামটিতে মোট ৮টি গান সংকলিত হয়েছে। সেগুলো হলো- মোরে বারে বারে ফিরালে; চরণধ্বনি শুনি তব, নাথ; প্রচণ্ড গর্জনে আসিল একি দুর্দিন; সুখহীন নিশিদিন পরাধীন হয়ে ভ্রমিছ দীনপ্রাণে; হৃদয়বাসনা পূর্ণ হল আজি মম পূর্ণ হল; আমার মন, যখন জাগলি না; বাজে বাজে রম্যবীণা বাজে; খেলার সাথি, বিদায়দ্বার খোলো।

উল্লেখ্য, ফারহিন খান জয়িতা আমাদের দেশের একজন তরুণ রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। মাতামহ প্রয়াত ওযাহিদুল হক সংগীতাচার্য, রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ। মা স্বনামধন্য শিল্পী মিতা হক। কেবল এই পরিচয়ই যথেষ্ঠ হতো জয়িতার সংগীতের আসরে একটি বিশেষ স্থান করে নেওয়ার। কিন্তু তারও চেয়ে যে বড়, এ সকল পরিচয় ছাপিয়ে, জয়িতা তার নিজ গুনেই তা অর্জন করে নিয়েছে। বাংলাদেশের রবীন্দ্রসংগীতচর্চার ভুবনে সে তার নিজের আসনটি স্থায়ী করে নিয়েছে নিজ কৃতিত্বে।

জয়িতার গান সম্পর্কে বিশিষ্ট রবীন্দ্রানুরাগী, নাট্যজন আলী যাকের বলেন, “আমি এর আগে জয়িতার গান অনেকবার শুনেছি। কিন্তু এই বিশেষ ঘন বাদনে যে গান গুলো ধারণ করা হয়েছে সেগুলো শুনতে-শুনতে নিজের অজান্তেই আমি এক ভিন্ন সুরের জগতে চলে যাই। রবীন্দ্রনাথের গানের যে বৈচিত্র্য সে বিষয়টি আমাদের অনেক সাধারণ শিল্পীর কাছে সচরাচর ধরা পড়ে না। জয়িতা তার মুন্সিয়ানা দিয়ে সেই বৈচিত্র্য এই সিডিটিতে নিজেই প্রতিষ্ঠিত করে নিল। রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন রীতিতে তাঁর গানের সুর রচনা করেছেন। আমরা প্রায়ই বলে থাকি রবীন্দ্রনাথের গান ধ্রুপদাঙ্গের গান। ঠিক সেই ধ্রুপদ যেমন আছে, তেমনি রবীন্দ্রনাথের গান খেয়ালনির্ভর, সেটিও আছে। রবীন্দ্রনাথের গান টপ্পায় রয়েছে। কি নেই? এই বৈচিত্রটিকে তুলে ধরা হয়েছে এই বিশেষ ঘন বাদনের মাধ্যমে। এই গানগুলো শুনলে ঠিক যেমন রবীন্দ্রনাথের গানের বৈচিত্র্য সম্বন্ধে একজন মানুষ বুঝতে পারে, তাঁর সুর লালিত্যে অবগাহন করতে পারে, তেমনি যে কেউ এটাও উপলব্ধি করতে পারে যে, জয়িতা অনেক দূর যাবে। ভবিষ্যতে বাংলা সংগীতে জয়িতার একটি বিশেষ স্থান করে নেওয়ার সম্ভাবনাটিই এই অ্যালবামে অনিবার্যভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো।”

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। অনুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল।