ঢাকায় ১৭তম এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী

বাতাসে তখনও শীতের আমেজ। আর শীত এলেই ঢাকায় ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের উষ্ণতা। উৎসবের আমেজকে আরও বর্ণিল করতে শীতের শুরুতেই ঢাকায় আয়োজিত হয়েছে এক শিল্প মহাসমারোহের। গত ১ ডিসেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে ১৭তম দ্বিবার্ষিক চারুকলা উৎসব। শিল্প নিয়ে এই আয়োজনে অংশ নিতে দেশে আগমন ঘটেছিল নানা দেশের শিল্পীদের। জাতীয় চিত্রশালা হয়ে উঠেছিল শিল্পীদের পদচারণায় মুখর। দেশের শিল্পীদের জন্যও এই আয়োজন যেন পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের এক দারুণ অনুপ্রেরণা।
আয়োজনের প্রথম দুদিন ছিল পারফরম্যান্স আর্ট প্রদর্শনী। অপরদিকে আমাদের দেশের শিল্পচর্চার অগ্রদূত হিসেবে যাঁদের নাম স্মরণীয় হয়ে আছে, তাঁদেরকে ঘিরে রয়েছে আলাদা আয়োজন। বিশেষ অবদান রেখেছেন এমন চারজন শিল্পীর মাঝে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, এস এম সুলতান, সফিউদ্দিন আহমেদ ও পটুয়া কামরুল হাসানের বিশেষ সব কাজ নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে আয়োজনের অংশ হিসেবে চলছে আরও একটি প্রদর্শনী।
শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ভবনজুড়ে সাজানো হয়েছে এই উৎসবের শিল্পকর্মগুলো। ভাস্কর্য, ইনস্টলেশন, চিত্রকর্মের উপস্থিতি যেন বদলে দিয়েছে পুরো প্রাঙ্গণ। মাসব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
বাংলাদেশে এই আয়োজন শুরু হয় ১৯৮১ সালে। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর আয়োজিত হলো এই মিলনমেলার। শুধু শিল্পী নয়, আগমন ঘটেছিল শিল্প সমালোচক, মিউজিয়াম কিউরেটর, শিল্প সমালোচক ও সংগ্রাহকদের। বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের মধ্যে স্থান পেয়েছে ১২৭ জন শিল্পীর শিল্পকর্ম। বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছেন বাছাইকৃত ১৪৮ জন শিল্পী। অনুষ্ঠিত হয়েছে সেমিনার Art In The City। একদিকে শিল্পীদের পদচারণা অন্যদিকে সবার মিলনমেলা, দেশের শিল্পাঙ্গন এ মুহূর্তে রমরমে অবস্থায় বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে ১৭ বার এমন সফল আয়োজন আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।
বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের নিয়ে গঠিত জুরিবোর্ড এ বছরও নির্বাচন করেছে নয়জন শিল্পীর কাজ, যাদেরকে দেওয়া হয়েছে অ্যাওয়ার্ড। ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া এই প্রদর্শনী উন্মুক্ত ছিলো প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।