তিন কবির জয়ন্তী উপলক্ষে উদীচীর অনুষ্ঠান

গান, নাচ, আবৃত্তি, নাটকের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের তিন মহীরুহ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের জয়ন্তী উদযাপন করলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

এই তিন মহান সাহিত্যিকের জন্মতিথি উদযাপনে গত ১৪ জুলাই, শুক্রবার বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ঢাকা মহানগর সংসদ আয়োজন করে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী। গত ১৪ জুলাই শুক্রবার বিকাল ৫টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত হয় অনুষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে একক গিটার বাজিয়ে শোনান শিল্পকলা বিদ্যালয় ‘বিশ্ববীণা’র শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বকুল। এরপর প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে তিন কবিকে স্মরণ করেন অতিথিরা।

এরপর উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিবাস দের সভাপতিত্বে শুরু হয় আলোচনা পর্ব। এ পর্বে সুকান্ত ভট্টাচার্য্যকে নিয়ে আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হিমেল বরকত। তিনি বলেন, প্রায় দুইশ বছরের ইংরেজ শাসনে-শোষণে পীড়িত-ক্ষিপ্ত জনতার উত্থানলগ্নে সুকান্তের আবির্ভাব। এই উত্তাল সময়েই মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে সাম্যবাদ ও কবিতাকে বেছে নিয়েছিলেন মাত্র ১৪-১৫ বছরের কিশোর সুকান্ত।

এরপর কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-রচনা বিষয়ে আলোচনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা জলী। তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্যে নজরুল এমন একজন কবি যিনি একইসাথে রোমান্টিকতার দুটো সত্ত্বাকে ধারণ করতে পেরেছিলেন। প্রেমিক সত্ত্বা এবং বিদ্রোহী সত্ত্বাকে তিনি অসাধারণভাবে নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, আমাদের প্রাণের স্তরে স্তরে রবীন্দ্রনাথের দানের মাটি সোনার ফসল তুলে ধরেছে। তিনি আমাদের দিয়েছেন গৌরব ও ঐশ্বর্য।

এছাড়াও, সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু। সভাপতির বক্তব্যে নিবাস দে বলেন, বাঙালির মানস গঠনে অপরিহার্য্য ভূমিকা রেখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং সুকান্ত ভট্টাচার্য্য। তাঁদের রচনা সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, সাম্রাজ্যবাদসহ সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং সমাজ গঠনের সংগ্রামে আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিনিয়ত আমাদের পথনির্দেশ করে চলেছে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়ার্ধে কথায় ও কবিতায়, সঙ্গীত, নৃত্যে, নাট্যে মহান তিন কবির বন্দনায় মাতেন উদীচী’র শিল্পীরা। এ পর্বে নানা পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হন উদীচীর বিভিন্ন শাখার শিল্পীবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শেষাংশে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক ভূতের ভয়– এর প্রথম মঞ্চায়ন করে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের নাটক বিভাগ।