তুমি রবে নীরবে

অজস্র রচনায় বাংলার বর্ষাকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনিন্দ সৌন্দর্য্যে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। বৃষ্টির অজস্র জলধারায় পরিপুষ্ট তাঁর বিচিত্র রচনাসম্ভার। বর্ষার প্রতি রবিঠাকুরের পক্ষপাত সর্বজনবিদিত।

তিনি চিরবিদায়ও নিয়েছেন তাঁর প্রিয় এই ঋতুতেই। গতকাল, ২২ শ্রাবণ ১৪২৪, ছিল কবিগুরুর ৭৬তম প্রয়াণদিবস।

কবিকে স্মরণ করে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আয়োজন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। সব আয়োজনেই ছিল তাঁর লেখা গান, কবিতা ও নৃত্যনাট্য পরিবেশনা।

কবির প্রয়াণ দিবসে ‘রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি। একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষাবিদ হায়াৎ মামুদ। আলোচনা শেষে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতেই সমবেত সংগীত পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমির শিশুদল। অনুষ্ঠানে সমবেত সংগীত পরিবেশন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগ। একক পরিবেশনার পাশাপাশি সমবেত সংগীত পরিবেশন করে সরকারি সংগীত মহাবিদ্যালয়, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা ও রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন সৈয়দ হাসান ইমাম, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, মাহমুদা আক্তার ও কৃষ্টি হেফাজ।

রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ছায়ানট স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গতকাল সন্ধ্যায় ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের ছায়ানট মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে লাইসা আহমেদ লিসা, ইফফাত আরা দেওয়ান, মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ প্রকৃতি পর্ব থেকে বিভিন্ন সংগীত পরিবেশন করেন। এ ছাড়াও সম্মিলিত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন ছায়ানটের শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে জহিরুল হক খান ও শামীমা নাজনীনের কর্ণ-কুন্তী-সংবাদ কাব্যনাট্যের পাঠ ছিল দর্শক-শ্রোতার জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা। সবশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠানটি।

রবীন্দ্রনাথ অশেষ, তাঁর বাণীও অশেষ, যুগে যুগে আলোকিত মনন সৃজনে বিলিয়ে যাবে রবির কিরণ।