দুই প্রজন্মের দুইজন…

বাতাসে বইয়ের গন্ধ। মাসজুড়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে সহস্র বই। মেলা ঘনিয়ে আসতেই ব্যস্ততা বাড়ে লেখক প্রকাশকের। সেইসঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়েন শিল্পীরা- বইয়ের প্রচ্ছদ রাঙাতে। বইয়ের পয়লা দর্শনেই যাদের উপস্থিতি তাদের মধ্যে ব্যস্ততম দুই শিল্পী ধ্রুব এষ এবং সব্যসাচী হাজরা।  আশির দশক থেকে প্রচ্ছদ  করছেন ধ্রুব এষ। আর সব্যসাচী হাজরা নতুন শতকের উজ্বলতম প্রচ্ছদশিল্পী। দুই গুণী শিল্পী বেঙ্গল বারতার মুখোমুখি হয়েছিলেন ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি সংখ্যায়। আলাপ করেছিলেন বই এবং প্রচ্ছদের বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে

আড্ডাটা শুরু করতে চাই বইমেলা নিয়ে। দুজনের কাছেই শুনবো বইয়ের প্রচ্ছদ করার ইচ্ছাটা কেমন করে জন্মালো এবং তাদের দেখা বইমেলার অভিজ্ঞতা?

ধ্রুব এষ: আমি ১৯৮৫ সালে চারুকলাতে ঢুকি। ১৯৮৬ সালের বইমেলার কথা আমার বিশেষভাবে মনে আছে। তখনকার পরিবেশটাই ছিল অন্যরকম। তখন তো লোকজন ছিল কম। সবাই মাঠে বসতো, আড্ডা দিত। মজাটাই আলাদা ছিল। আর মেলাজুড়ে সেইবার শুনতে পাচ্ছিলাম শিল্পী কাজী হাসান হাবিবের নাম। তখন তো বই বের হতো কম। হয়তো দুই শ’ কিংবা তার চেয়ে একটু বেশি। তার মধ্যে ৪২টা বইয়ের প্রচ্ছদ ছিল কাজী হাসান হাবিবের করা। যেটা বর্তমান সময়ে হয়তো কারোর নজরও কাড়বে না। কেননা এখন বইই বের হয় প্রায় চার হাজারের মতো। বইমেলার কথা ভাবলে আমার এই বিষয়টাই শুধু মনে পড়ে। এই ছিল আমার প্রথম বইমেলা দেখার স্মৃতি। আমি নিজে কাজ শুরু করি ১৯৯৭ সাল থেকে। একটা ছড়ার বই দিয়ে শুরু। মোশতাক আহমেদের বই ছিল সেটি, নাম ছুটোছুটি। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমি আর্ট কলেজে ভর্তিই হয়েছিলাম বইয়ের প্রচ্ছদ করার জন্য। আমার মা প্রচুর বই পড়তেন। সেই সময় থেকে বইয়ের প্রতি এই নেশা। ওই সময়ই আমি পত্রিকার পাতা কেটে কেটে তার ওপর কভার দিয়ে এমনি এমনি ‘লে-আউট’ তৈরি করতাম।

সব্যসাচী হাজরা: আমার কাছে আসলে ঢাকার বইমেলার স্মৃতিটা ওইভাবে আসে না। খুলনার হাদিস পার্কে ছোট করে একটা বইমেলা হতো। বসন্ত মেলার মধ্যে ছোট পরিসরে বইমেলা হতো। আমরা ১৯৯১ সালের দিকে প্রাশ্নিক বিজ্ঞানাগার নামে একটা সংগঠন করতাম। খুলনাতে তখন কোনো প্রকাশনীও ওইভাবে ছিল না। ‘খুলনা বুক সেন্টার’ নামে একটা দোকান ছিল। আমরা সেখান থেকে বই নিয়ে সেই মেলায় একটা বইয়ের দোকান দিয়েছিলাম। বইয়ের বিক্রি যে এমন হতে পারে সেটা না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। আমাদের একটা বিরল অভিজ্ঞতা হয়েছিল। সেই সময় আমি বই খুললেই দেখতাম প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ। বিষয়টা সম্পর্কে খোলামেলা কোনো ধারণা ছিল না। বইয়ের পাতা উল্টালেই ঘন ঘন নামটা চোখের সামনে আসত। বই পড়ার বাইরে প্রচ্ছদটাকে আলাদাভাবে দেখা শুরু করলাম। আর বইয়ের পাতায় পাতায় কাইউম চৌধুরী, হাশেম খানতো আছেই। তাঁদের প্রচ্ছদগুলো দেখে দেখেই এই পথে আসা। ধ্রুব দার কাজ আমার ক্ষেত্রে মোটাদাগে উৎসাহ জুগিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই জায়গা- আমি বলব একেবারে ‘মাফিয়া’র মতো কাজ করে আসছেন আর আমাদের মতো কিছু পরগাছার জন্ম দিচ্ছেন।

শিল্পী এবং প্রচ্ছদশিল্পী- দুটোকে কীভাবে বিচার করবেন?

ধ্রুব এষ: বইয়ের প্রচ্ছদ করাটাই আমার প্রফেশন। আমি আর কোনো কাজ করি না। কাজেই এটার সঙ্গে আমি থাকবই। তবে ভালো প্রচ্ছদশিল্পী সব সময়ই কম। গত ৩০ বছরের মধ্যে সাতজন প্রচ্ছদশিল্পীর নাম বলা কঠিন। সেটা বাংলাদেশ বলি আর পশ্চিমবঙ্গ বলি। আমি একটা ঝুঁকির জায়গা থেকে এই কাজটা শুরু করেছি। এক বছর বইয়ের প্রচ্ছদ না করলে না খেয়ে থাকতে হবে, পরিস্থিতিটা এমন।

সব্যসাচী হাজরা: ভালো শিল্পী এবং ভালো প্রচ্ছদশিল্পী দুটো একবারেই আলাদা ব্যাপার। ভালো আঁকলেই যে কেউ ভালো প্রচ্ছদশিল্পী হতে পারে না। সাহিত্যের প্রতি এক ধরণের ভালোবাসা না থাকলে বইয়ের প্রচ্ছদ করা কঠিন। ধ্রুব দা যেটা বললেন, ছোটবেলা থেকে তিনি মাকে প্রচুর বই পড়তে দেখেছেন, সেই জায়গা থেকে তাঁর পড়ার প্রতি আগ্রহ জন্মে। কোনো একটা বিষয় পড়ে সেটা আত্মস্থ করার ইচ্ছাটা থাকতে হবে। যেটা আমরা ধ্রুব দার লেখালেখির মধ্যে খুঁজে পাই। অসংখ্য লেখা আর পাণ্ডুলিপি পড়তে পড়তে পড়ার প্রতি একটা আগ্রহ জন্মায় আর সেখান থেকেই ভালো ভালো প্রচ্ছদ বেরিয়ে আসে- এটুকু তাঁর ব্যাপারে আমি বলতে পারি। শিল্পী আর একজন প্রচ্ছদশিল্পীর মাঝে পার্থক্যের জায়গা এটি।

শিল্পী ধ্রুব এষ

ধ্রুব এষ: এ বিষয়ে আমিও একমত যে প্রচুর পড়ার অভ্যাস না থাকলে এই কাজটি করা কঠিন। এখানে আমি একজনের নাম বলতে চাই যিনি একইসঙ্গে একজন ভালো শিল্পী এবং প্রচ্ছদ শিল্পী, পটুয়া কামরুল হাসান।

সব্যসাচী হাজরা: তবে ধ্রুব দার সঙ্গে একটা জায়গায় আমি একমত হতে পারি না, সেটা হলো এই কাজটাকে পেশা হিসেবে নিয়ে কেউ এগোতে পারে, সেই ব্যাপারটা। এই ক্ষেত্রে ধ্রুব দাই একমাত্র উদাহরণ। আর কেউ নেই। এই বিষয়টি প্রকাশকদের বুঝতে হবে, লেখকদের বুঝতে হবে। আমি একবার হিসাব করে দেখেছিলাম একটি বই ন্যূনতম ৩০০ বা ৫০০ কপি বের হয়। এই বইটার প্রডাকশন খচর এবং সেই প্রকাশক প্রচ্ছদ বাবদ লেখককে যে সম্মানী দেয় সেই জায়গাটা থেকে বিচার করলে আসলেই কি একজন প্রচ্ছদ শিল্পীর দুই বা তিন হাজার টাকা প্রচ্ছদ বাবদ সম্মানী পাওয়া উচিত? অবশ্যই না। দ্বিতীয়ত একটা বই বিপণনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কারণ একটা বইয়ের প্রচ্ছদ সেই বইটার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। মূল বিষয় সাহিত্য, তার পরেই আসে বইটার প্রচ্ছদ। একটা বই হাতে নেওয়া মাত্রই প্রচ্ছদটি সবার আগে নজর কাড়ে। লেখার কপিরাইট আছে কিন্তু প্রচ্ছদ শিল্পীর কাজের কি কোনো কপিরাইট আছে? একটা বই যখন রিপ্রিন্ট হয় তখন লেখক কপিরাইট অনুযায়ী সম্মানী পান, কিন্তু প্রচ্ছদের বেলায় কোনো কপিরাইট আইন মানা হয় না। তাহলে এখানে প্রফেশনাল জায়গাটা কোথায়?

ধ্রুব এষ: আমি বলব এটা একটা ভালোবাসার প্রফেশন। কাজটা করতে ভালো লাগে, তৃপ্তি পাই- সেই জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত বইয়ের কাভার ডিজাইন করে যাচ্ছি।

সব্যসাচী হাজরা: অনেক সময় দেখা যায়, একটা খুব মানসম্পন্ন বইয়ের খারাপ প্রচ্ছদের জন্য বিপণনটা কমে যায় আবার একইভাবে সাধারণ লেখারও একটা ভালো প্রচ্ছদের জন্য বিপণন বেড়ে যায়। দুটো বিষয়ই সমানভাবে কাজ করে একটা বইয়ের ক্ষেত্রে।

ধ্রুব এষ: তবে আমি বলব ভালো বইয়ের প্রচ্ছদ কেমন হলো তাতে কিছু যায় আসে না। মূল কথা পাঠকদের কাছে ভালো বইয়ের গ্রহণযোগ্যতা সব সময়ই এক থাকে। যেমন সমাজতত্ত্ব কিংবা নন্দনতত্ত্ব নিয়ে একটা বইয়ের প্রচ্ছদ যাই হোক না কেন সেই বইটা যার দরকার সে সেটা কিনবেই।

আপনারা দুজন দুজনের সম্পর্কে কিছু বলবেন?

সব্যসাচী হাজরা: বইমেলায় গেলেই সেটা টের পাওয়া যায়। বইয়ের পাতা উল্টালেই ধ্রুব এষ, ধ্রুব এষ ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ে না। অনেকেই আমাকে দেখে বলে আপনি কি ধ্রুব এষ? বইমেলায় আমার কাছে একবার একটা মেয়ে এসে বলছে, দাদা একটা অটোগ্রাফ দেবেন? আমি বললাম, আমি কে বলেন তো? সে পালটা প্রশ্ন করলো, কেন আপনি ধ্রুব এষ না? আমাদের দু’জনের চুল লম্বা, দাড়ি বড়- এই কমন বিষয়টির জন্য অনেকেই এই ভুলটা করে।

ধ্রুব এষ: আমি আমার নিজের বইয়ের প্রচ্ছদই করাই সব্যকে দিয়েই। ও এই ক্ষেত্রটাতে আসার পরে আমি অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করাইনি। ওর করা সবচেয়ে সুন্দর প্রচ্ছদ আমার বইয়ের প্রচ্ছদটাই, সেটা আমি মনে করি। যেটা করা হয়েছিল গত বছরের আগের বছর। বইটার নাম ছিল দূরের সবুজ বনভূমি

সব্যসাচী হাজরা: ধ্রুব দার লেখা বইয়ের কাজ করার জন্য আমাকে একটু বেশি সচেতন থাকতে হয়, সেই কারণেই হয়তো আলাদা কিছু বের হয়ে আসে। তিনি নিজে একজন প্রচ্ছদশিল্পী, সেটা মাথায় রেখেই আমি তার বইয়ের কাভার ডিজাইন করি।

এই ক্ষেত্রটায় কাজ করতে গিয়ে আপনারা কি সবসময় উদারভাবে কাজ করতে পারেন?

ধ্রুব এষ: বাজার যেমন তেমন পণ্য। কিছু কিছু লিমিটেশন থাকেই, সেগুলো নিয়েই কাজ করি। একটা সিরিয়াস বইয়ের জন্য সিরিয়াস থিম নিয়ে আর একটা তরল বইয়ের জন্য সোজা থিম নিয়ে কাজ করি। আমি বলব, এটা ট্রিটমেন্ট। আমি কয়েকটা বইয়ের কথা বলছি। যেমন রোমেনা আফাজের দস্যু বনহুর, তার পর কুয়াশা, মাসুদ রানা এই সিরিজের বইগুলো পড়ে পড়ে তো আমাদের বেড়ে ওঠা। স্কুলে থাকতে, পাঠ্য বইয়ের মধ্যে রেখে কমবেশি আমরা সবাই পড়েছি। এই বইগুলার কাভার প্রয়াত শাহাদৎ চৌধুরী একেবারেই নতুন একটা ফরম্যাটে ফেলে করেছিলেন। তিনি অসাধারণ কোলাজ কাভার করতেন। বইগুলো বেশিরভাগই ছিল বাইরের পটভূমিতে করা। আমি তার করা একটা বইয়ের নাম এখানে বলব, আই লাভ ইউ ম্যান- দুর্দান্ত একটা কোলাজ কাভার হয়েছিল সেটি। আমার কোলাজ কাভার করার অনুপ্রেরণা আমি সেখান থেকেই পেয়েছি। আরেকজন মানুষের নাম বলতে চাই। তার নাম আফজাল হোসেন। আমি সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পাই এই লোকটার কাছ থেকে। তাঁর কাজে ছিল রঙের খেলা। বর্ণিল সব প্রচ্ছদ। তিনি অনেক এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করেছেন। তিনি টাইপোগ্রাফির কাজগুলোও খুব মজা করে করেন।

শিল্পী সব্যসাচী হাজরা

সব্যসাচী হাজরা: ধ্রুব দা আর আমি কাজ করছি দীর্ঘসময় ধরে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে এভাবে বসা আজকেই প্রথম। তিনি সবকিছু খুব সরল সোজাভাবে দেখেন। কারণ মানুষ হিসেবে আসলেই তিনি সহজ সরল একজন মানুষ। আমি নিজে বিষয়গুলো এতটা সহজ করে দেখতে পারি না। একটা শিল্প কখন ভালো হয়? যখন ওই শিল্পের সব মাধ্যমগুলোর সঙ্গে সুন্দর সমন্বয় হয়। আমাদের এই কাজের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ব্যাপার। প্রকাশক, পাঠক, লেখক- সবার সঙ্গে যখন সুস্থ ও  সুন্দর মেলবন্ধন তৈরি হবে তখন প্রচ্ছদেও সেই সুন্দর যোগসূত্রের প্রকাশ ঘটবে, একা ধ্রুব এষের পক্ষে সম্ভব নয়। আর একটা বিষয় হলো বইমেলা আসলে আমাদের মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে বই বের করতে হবে বলে। ওই সময় একটা কাজ দেখে যে কেউ বলে ফেলতে পারে যে কিচ্ছু হয়নি। কিন্তু ওই কাজটার পেছনে যে কত গল্প থাকে, সে গল্প কারোরই জানা হয় না। অনেকগুলো ধাপ পার হবার পর আমরা  মূল কাজটা দেখতে পাই। আড়াই শ’ পৃষ্ঠার একটা গল্প কিংবা সাত শ’ থেকে আট শ’ পৃষ্ঠার কোনো উপন্যাসকে একটা ছয় ইঞ্চি বাই নয় ইঞ্চি ফ্রেমের মধ্যে আনা খুব কঠিন ব্যাপার। পুরো কাজটাই যদি একটু সময় নিয়ে প্ল্যান করে, সমন্বয় ঘটিয়ে করা যায় তাহলে অবশ্যই ভালো জিনিস বের হওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। সাহিত্যকে ছয়/নয় ফ্রেমে বাঁধা একটা অন্য মেধা, একটা ভিন্ন শিল্প। হঠাৎ করে কারোর মধ্যে জোর করে এটা শেখাতে গেলে কিংবা বোঝাতে গেলে পারা যাবে না। যদি তাই হতো তাহলে তো প্রতি বছর আর্ট কলেজ থেকেই কয়েকজন করে প্রচ্ছদশিল্পী বের হতো। কারণ সেখানে তো গ্রাফিক ডিজাইনের ওপর আলাদা ডিপার্টমেন্টই রয়েছে।

ধ্রুব এষ: এটা একটা দৃশ্যমান জিনিস। একটা প্রচ্ছদের নান্দনিক সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করা কঠিন। আমার মতে যারা বোঝে তারা বলুক। আমরা নিজেরাও একই কাজ করি কখনও কখনও। কোনো একটা সিনেমা দেখে হয়তো বললাম কিছু হয়নি। কী শট নিয়েছে এটা? কিন্তু বুঝতেই চাই না ওই কাজটার পেছনে কত কিছুই না লুকানো আছে।

আপনাদের ভালোলাগা ও খারাপ লাগাগুলো পরস্পরের ক্ষেত্রে?

সব্যসাচী হাজরা: আমি আগে বলতে চাই। আমরা যদি প্রচ্ছদে কোলাজের কথা বলি- কে শেখালো? ধ্রুব এষ; রং ছিটিয়ে কাজ করা; সেখানেও ধ্রুব এষ। আবার যদি বলি কাগজ ভাঁজ করে কাজ করা তাও ধ্রুব এষের আবিষ্কার। বিভিন্ন মোটিফ ভেঙেচুরে, মণ্ড দিয়ে কাজ যাই বলি না কেন, ধ্রুব দার নামটা আসবেই। ধ্রুব দার কাজ থেকে শেখার এবং জানার অনেক কিছুই আছে। আমি নিজেও তার কাজ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আর খারাপ লাগার ক্ষেত্রটা হলো তিনি চাইলে আরও কম কাজ করতে পারেন। তাহলে তাঁর মানসিক এবং শারীরিক শান্তি দুটোই বজায় থাকবে। আর তিনি যদি আবার পেইন্টিংয়ের দিকে ফিরে যান আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হবো।

ধ্রুব এষ: আপাতত আমি ফিরব না। সব্যকে খুশি করতে পারলাম না। এই সময়ে যারা কাজ করছে সবার কাজ থেকে সব্যর কাজ আমার কাছে আলাদা মনে হয়। সব্য পোস্টারের কাজও খুব ভালো করে। আমি মনে করি এখন আমার কপি না সব্যর কপি তৈরি হচ্ছে প্রচ্ছদ শিল্পের জগতে।

 

আলোকচিত্রী: কামরুল হাসান মিথুন