জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক গুণীজন বক্তৃতামালা

‘বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে তা অধিকাংশ জনগণকে স্পর্শ করেনি। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের নামে অনেক গীত গাওয়া হলেও সাধারণ গরিব মানুষের খুব বড় অংশ দিনে এক-দুই বেলা কোনভাবে নিম্নমানের খাদ্য দিয়ে জীবন ধারণ করছেন।’ গত ২০ মে, জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘স্বাধীন বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের ধারা’ শীর্ষক ২য় জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক গুণীজন বক্তৃতায় এসব কথা বলেন প্রখ্যাত লেখক, গবেষক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বদরুদ্দীন উমর।

বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণের সব অংশই ভেবেছিলেন স্বাধীনতার পর মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে, জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, দেশে উন্নয়নের ফসল গণতান্ত্রিকভাবে সমাজের সকল স্তরের জনগণের মধ্যে বণ্টিত হবে। কিন্তু জনগণের সেই আশা পূরণ হয়নি। কারন, বিএনপি, আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের সরকারি জোট সকলের শ্রেণিচরিত্রে বিশেষ কোনো পার্থক্য এবং ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে ধারা প্রবর্তিত হয়েছিল, এখন পর্যন্ত কোনো দলই তার কোনো পরিবর্তন ঘটায়নি।

দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি পাকিস্তান আমলে তৎকালীন পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া, সংবিধানের চার মূলনীতি, প্রথম পরিকল্পনা কমিশন, যুদ্ধাপরাধের বিচার, স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদল ও আর্থ-সামাজিক পরিবেশের উপর এর প্রভাব ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদের সমস্যা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রকৃত ভিত্তিকে রাজনৈতিক দল ও বুদ্ধিজীবীরা কোথাও সংজ্ঞায়িত করেননি। এমনকি ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারে সব দলেরই দায় রয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. আহ্‌রার আহমদ। তিনি বলেন, বদরুদ্দীন উমর অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের প্রিয়পাত্র ছিলেন এবং লেখালেখি ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি আমাদের সামাজিক-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তনের ভাষ্য তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং এর প্রধান লক্ষ্য মুক্তচিন্তার জায়গা প্রসারিত করা। এখানে বিভিন্ন মত ও পথ সম্বন্ধে আলোচনা হতে পারে। তবে এর কোনোটাই আমরা আমাদের বলে গ্রহণ করবো না। আজকের আলোচকদের মতই তারা তাদের ব্যক্তিগত বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবেন, কিন্তু সেগুলো রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের নয়।

এরপর বক্তব্যের মাধ্যমে বক্তার পরিচয় তুলে ধরেন বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সদস্য মইনুদ্দিন আহমেদ। বদরুদ্দীন উমর সম্পর্কিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

সবার শেষে সভাপতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সভাপতি জনাব হাসিবুর রহমান। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক গুণীজন বক্তৃতামালার প্রথম বক্তৃতা দিয়েছিলেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান।