নতুন আঙ্গিকে অরণ্য

নব্বইয়ের দশকে যাত্রা শুরু করে ‘অরণ্য’। ভেষজ রং ও দেশী তাঁতের তৈরি পণ্যকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন কারুশিল্প বিশেষজ্ঞ রুবী গজনবী। সেই ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে ছোট পরিসরের একটি শোরুম। শুধু পণ্য বিক্রি নয়, এর গুণগত মান ধরে রাখতে এবং নিত্যনতুন উদ্ভাবনী পোশাক বাজারজাত করতে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি নিজেকে নতুন করে সাজিয়েছে ‘অরণ্য’। বনানীর কামাল আতাতুর্ক সড়কের শোরুমটিতে ঢুকলেই সেই পরিবর্তন চোখে পড়বে সবার। লোগো, স্থাপত্য ভাবনা কিংবা পণ্য সজ্জাতেও এসেছে অভাবনীয় পরিবর্তন। প্রত্যেকটি শাখায় পরিবর্তন আনতে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে রঙের দিকে এবং তা অবশ্যই প্রাকৃতিক রং। যেসব উৎস হতে প্রাকৃতিক রংগুলো সংগ্রহ করা হয় সেসব অনুষঙ্গের উপস্থিতি টের পাওয়া যায় শোরুমে ঢুকতেই। সেইসঙ্গে হরীতকী, খয়ের, মেহেদী, নীল ইত্যাদি রঙকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হয়েছে পণ্যগুলোকে। সুতরাং পছন্দের রং অনুযায়ি খুব সহজেই ক্রেতারা খুঁজে পাবেন তাদের প্রিয় পণ্যটি।

 

অরণ্যকে নতুন করে সাজানোর এই উদ্যোগের একটি প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি ‘ফ্ল্যাগশিপ স্টোর’ তৈরী করা। দ্বিতীয়ত, রাসায়নিক রং বাদ দিয়ে কেবল প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করেই নানা ধরনের পণ্য তৈরি করা। তৃতীয়ত, এই প্রথমবারের মতো অরণ্য ছোটদের জন্য খুব উন্নতমানের নকশি কাঁথা দিয়ে নানা ডিজাইনের পোশাক তৈরী করেছে, যা বাংলাদেশেও একদমই নতুন।

একথা বলা যেতেই পারে, উপমহাদেশের মধ্যে সর্বাধিক প্রাকৃতিক রঙের সম্ভার নিয়ে কাজ করছে অরণ্য। দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন কারুশিল্পীদের সঙ্গে কাজের পাশাপাশি অরণ্য নতুন করে কাজ শুরু করেছে উপজাতীয় ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে। এতে করে ওই অঞ্চলের লোকশিল্পের বিস্তারের পাশাপাশি আর্থিক ও সামাজিক দু’দিক থেকেই উন্নতি ঘটছে।
অরণ্যর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এবং কর্মপরিধি বিষয়ে এর পরিচালক নওশীন খায়ের বলেন, ‘বর্তমানে আমরা সবাই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি আরও নতুন সব অর্গানিক রং সংগ্রহ করতে। দেশীয় প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা রং নিয়ে তৈরি এসব পণ্য একসময় দেশের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে দিতে চাই, বাড়াতে চাই অরণ্যর পরিধি। পাশাপাশি দেশি ব্র্যান্ড হিসেবেই শুধু নয়, স্বপ্ন দেখি, একদিন অরণ্য হবে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড।’