নবীন নির্মাতাদের জন্য বড় সুযোগ

স্বপ্নালু তরুণদের এক সময়ের সবচে বড় দুশ্চিন্তা ছিলো কবিতাটা ছাপাবে কে। ইনিয়ে বিনিয়ে সম্পাদক বরাবর চিঠি লেখা থেকে শুরু করে তার দুয়ারে দিয়ে ধর্না দেওয়ার দৃশ্য খুবই পরিচিত ছিলো দুদশক আগেও। এখন দৃশ্যপট বদলেছে ঠিকই, কাহিনী আছে একদম অপরিবর্তিত। অর্থাৎ তরুণ কবির জায়গায় সিনেমার ভূতে পাওয়া যুবকের গল্প প্রায় একই রকম। সহজলভ্য কারিগরিতে ক্ষুদ্র দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়ত খুব কঠিন কাজ নয়। তবে সেটা প্রদর্শনের ঝক্কিও ততটাই কঠিন। নবীন নির্মাতাদের জন্য বাজার জায়গা করে দেয় না সহজে। তাদের কথা ভেবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ নিয়মিত আয়োজন করে আসছে ‘আন্তর্জাতিক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব’। টেক ইওর ক্যামেরা, ফ্রেম ইওর ড্রিম – এই স্লোগান সামনে রেখে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশ ও বিদেশের নব্য চলচ্চিত্র নির্মাতারদের ফ্রেমবন্দী স্বপ্ন প্রদর্শন করে আসছে উৎসবটি। আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত এই চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের বানানো চলচ্চিত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। এই নিয়ে দশম বারের মত উৎসবটি আয়োজন করতে যাচ্ছে ডাকসু অনুমোদিত সংগঠনটি।

নাম থেকেই এটা স্পষ্ট যে উৎসবটি কেবল স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র অর্থাৎ শর্টফিল্ম প্রদর্শনকে সামনে রেখে আয়োজিত হয়। যেকোন কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স বা মাস্টার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এখানে তাদের চলচ্চিত্র জমা দিতে পারবেন। এছাড়া ব্যাচেলর ডিগ্রী শেষ হওয়ার পর আরও দুই বছর পর্যন্ত এই উৎসবে অংশগ্রহণ করবার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিযোগীতা (সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট) ও প্যানারোমা (সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট)- এই দুই ক্যাটাগরিতে শর্টফিল্ম জমা দিতে পারবেন অংশগ্রহণকারীরা। উৎসবে চলচ্চিত্র জমা দেওয়া ও উৎসব সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে চলচ্চিত্র সংসদের ওয়েবসাইটে। এ ছাড়া উৎসব সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানতে যুক্ত হতে পারবেন এর ফেসবুক গ্রুপে

এই উৎসবে বাংলাদেশের পাশাপাশি বিদেশী নির্মাতারাও অংশ নিয়ে থাকেন। দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপসহ সবকটি মহাদেশ থেকেই অংশ নেন নব্য নির্মাতারা। সৃজন উৎকর্ষে কে কাকে ছাড়িয়ে যাবে তারই এক বৈশ্বিক আনন্দযোগ এই উৎসব।

তরুণ নির্মাতাদের বানানো সিনেমা প্রদর্শনীর পাশাপাশি এই চলচ্চিত্র উৎসব চলচ্চিত্র নির্মানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ জাগিয়ে তুলতেই এই আয়োজন বলে জানালেন আয়োজকেরা। তারা আশা করছেন এই আয়োজন দেশের নবীন চলচ্চিত্রকারদের মাঝ থেকে তুলে নিয়ে আসবে নতুন প্রতিভা।

প্রতিযোগীতায় নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলো থেকে সেরা সিনেমা পাবে ‘জহির রায়হান শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরষ্কার’ এবং শ্রেষ্ঠ বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পাবে ‘তারেক মাসুদ সেরা উদীয়মান পরিচালক পুরষ্কার’।   দুটি পুরস্কারের জন্য যথাক্রমে থাকবে ৩০০ ও ২০০ মার্কিন ডলারের প্রাইজমানি। এ ছাড়াও সেরা ৩০ জন পাবেন একটি ট্যালেন্ট ক্যম্পাস আয়োজনে অংশগ্রহনের সুযোগ যেখানে দেশ ও দেশের বাইরের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যাক্তিত্বরা থাকবেন আলোচক এবং প্রশিক্ষক হিসেবে। এর বাইরেও সেরা ৫০টি চলচ্চিত্র বাছাই করে সেগুলি প্রদর্শন করা হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিদেশী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, টেলিভিশন চ্যানেল, সিনেপ্লেক্স এবং উন্মুক্ত প্রদর্শনীতে।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ (ডিইউএফএস) একটি স্বেচ্ছাসেবী ছাত্র সংগঠন। ‘আন্তর্জাতিক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব’ তাদের নিয়মিত আয়োজনের একটি। বরাবরের মত এবারেও উৎসবটি দেশ-বিদেশের বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্রের পসার নিয়ে দর্শকদেরকে আনন্দ দেবে, নবীন নির্মাতাদেরকে দেবে নব উদ্যোম।