পাঁচদিন ধরে চলবে নাটক ‘পাঁজরে চন্দ্রবান’

নাটকে কোনো গল্প নেই, আছে খণ্ড খণ্ড দৃশ্য। এসব দৃশ্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে গল্প। নাটকের নয়, মানুষের গল্প। এই গল্প মানুষের অস্তিত্বের লড়াইয়ের-বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ঘূর্ণিপাকে পড়া উদ্বাস্তু মানুষের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ব্যবস্থাপনা ও প্রযোজনায় পরপর পাঁচ সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে নাটক ‘পাঁজরে চন্দ্রবান’। নাটকটি রচনা করেছেন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও নির্দেশক শাহমান মৈশান। নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসরাফিল শাহীন। আজ সন্ধ্যা ৭টায় বিভাগের নিজস্ব মিলনায়তন নাটমণ্ডলে এবং ৬ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাটকটি মঞ্চস্থ হবে।

নাটকটির বিষয় বহুমাত্রিক। স্বৈরশাসকের একনায়কতন্ত্র, বুদ্ধিবৃত্তির আমলাতন্ত্র, প্রেমাতাল আকাঙ্ক্ষা, প্রতিশ্রুত ভূমি, গণতন্ত্রের স্ববিরোধিতা ও প্রচলিত বিষাক্ত আত্মার ভঙ্গুরতায় জরাজীর্ণ ব্যক্তিত্বের আখ্যান ‘পাঁজরে চন্দ্রবান’।

নাটকটি সম্পর্কে এর নির্দেশক ইসরাফিল শাহীন বলেন, নতুন ধরনের নাটক নির্মাণ করার ইচ্ছা থেকেই এই প্রযোজনা। খ্যাতিমান এই নির্দেশক এর আগে আধুনিক ইউরোপীয় নাটক নিয়ে কাজ করেছেন। নাটকের অভিনেতারা বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্য রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন প্রত্যক্ষ করে এসেছেন। জীবনের দগদগে অভিজ্ঞতাকে নাট্য নির্মাণের শৈল্পিক অভিজ্ঞতার নমুনা হিসেবে এই প্রযোজনাকে দেখা যেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মানুষের দুর্দশা ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের রসায়ন এই নাট্য নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলেও মনে করেন তিনি।

নাটকটি সম্পর্কে নাট্যকার শাহমান মৈশানের মতে, সমকালীন পৃথিবীর রাজনৈতিক রূপক হিসেবে এই নাটকের আত্মপ্রকাশ। তবে মানুষের আধ্যাত্মিক পরিক্রমাসহ আরও অনেক চিহ্নের সমাহার থাকবে ‘পাঁজরে চন্দ্রবান’-এ।

‘পাঁজরে চন্দ্রবান’-এ অভিনয় করছেন বিভাগের স্নাতোকত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থীবৃন্দ। মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় আশিক রহমান লিয়ন, সঙ্গীত পরিকল্পনায় কাজী তামান্না হক সিগমা ও সাইদুর রহমান লিপন এবং কোরিওগ্রাফিতে আছেন অমিত চৌধুরী।

এছাড়া ভারতে অনুষ্ঠিতব্য থিয়েটার অলিম্পিকে ১৩ মার্চ পাটনা ও ১৪ মার্চ দিল্লিতে মঞ্চস্থ হবে ‘পাঁজরে চন্দ্রবান’।