প্রথম হলেন ঢাবির সৌম্য

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের স্মৃতি ধরে রাখতে নানাবিধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠ। সে ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অংশগ্রহনে আয়োজন করে আসছে রচনা প্রতিযোগীতার। এবারের বিষয় ছিল ‘জাতীয়তাবাদী চেতনা: বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এর সমস্যা ও সম্ভাবনা’। সবাইকে পেছনে ফেলে রচনা প্রতিযোগীতার প্রথম পুরস্কার হাতে তুলে নিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সৌমিক দাস সৌম্য।

জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন আয়োজিত রচনা প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণ করা হয় গত মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০১৭। জাতীয় জাদুঘরের নলনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে এ পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় একটি আলোচনা সভাও।

পুরস্কার গ্রহণ করছেন প্রতিযোগীতায় বিজয়ী সৌম্য

প্রতিযোগীতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মিনহাজ আমান এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র জহির উদ্দিন সোহাগ।

পুরস্কার বিতরণী শেষে আলোচনায় অংশ নেন অতিথিবৃন্দ। আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক স্বপন আদনান। এরপর একে একে বক্তব্য রাখেন প্রধান আলোচক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক এবং অধ্যাপক এম এম আকাশ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মফিদুল হক এবং সব শেষে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক এম মোফাখখারুল ইসলাম।

মূল পর্বের প্রারম্ভিক বক্তৃতা প্রদান করেন জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের পরিচালক অধ্যাপক আহ্‌রার আহমদ। তিনি এই রচনা প্রতিযোগিতাকে তরুণ প্রজন্মের জন্য মেধা বিকাশ এবং ক্ষেত্র তৈরির একটি পদক্ষেপ বলে মনে করেন। তিনি মনে করেন,‘আমরা বড়রা অন্ধকার আঁকড়ে বসে থেকে ছোটদের আলোকিত করতে বললে হবে না।’ তিনি জাদুঘরের মহাপরিচালক আবদুল লতিফ চৌধুরিসহ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এবং জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান।

মূলপর্ব রচনা প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন অধ্যাপক ফখরুল আলম, মাসিক সাহিত্য পত্রিকা কালি ও কলমের সম্পাদক আবুল হাসানাত এবং মফিদুল হক।

অধ্যাপক স্বপন আদনান জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং এর বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে কথা বলেন। তিনি আবুল কাসেম ফজলুল হকের জাতীয়তাবাদ আন্তর্জাতিকবাদ বিশ্বায়ন ও ভবিষ্যৎ বইটি নিয়ে আলোচনা করেন। উল্লেখ্য, আয়োজকেরা বইটি আগ্রহীদের জন্য সংগ্রহের সুযোগও করে দিয়েছিলেন অনুষ্ঠানস্থলে। এরপর অনুষ্ঠানের মূল আলোচক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক এবং অধ্যাপক এম এম আকাশ বক্তৃতা প্রদান করেন।

আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে বক্তারা অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের জীবন ও তাঁর চিন্তা ভাবনা তুলে ধরেন, তাঁর আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একই সাথে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে তাদের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করেন।

রচনা প্রতিযোগিতার সমাপনী বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি অধ্যাপক মফিদুল হক। শিক্ষার্থীদের লেখনশৈলীতে তিনি মুগ্ধ হলেও নারীদের অংশগ্রহণ অনেক কম বলে মন্তব্য করেন।