‘প্রাণের খেলা’য় গাইলেন রথীন্দ্রনাথ রায়

রুচিশীল সংগীতের প্রসারে নিয়মিত গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। কখনও শাস্ত্রীয় সংগীত, কখনও রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে আয়োজিত হয়েছে সংগীতানুষ্ঠান ‘প্রাণের খেলা’। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজনে গান গাইলেন রথীন্দ্রনাথ রায়। গতকাল ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে একক সংগীত পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও দেশবাসীর মনোবলকে উদ্দীপ্ত করতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র । তরুণ কণ্ঠে দেশাত্মবোধক ও অনুপ্রেরণাদায়ী গান হয়ে উঠেছিলো স্বাধীনতাকামী লাখো বাঙালির প্রধান হাতিয়ার। এরই আলোকে স্বাধীনতার মাসে আয়োজন করা হয় এই সংগীত সন্ধ্যার।

স্বাধীন বাংলা বেতারে প্রচারিত গানসহ বেশ কিছু গান পরিবেশ করেন শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়। এসময় একে একে তিনি ‘ভোলা মন’, ‘আমার দেশ সব মানুষের’, ‘ও বগিলারে’, ‘কোথায় নিরাঞ্জন’, ‘তুমি আর একবার আসিয়া যাও মোরে কান্দাইয়া’ ও ‘হিরামতি হিরামতি’সহ বেশ কয়েকটি গান গেয়ে শোনান। এসময় তার সঙ্গে যন্ত্রানুষঙ্গ সহযোগে ছিলেন- তবলায় মিলন ভট্টাচার্য, বাঁশিতে মনিরুজ্জামান, দোতারায় সোলায়মান, মন্দিরায় নাজমুল আলম ঝরু এবং কী-বোর্ডে বিনোদ রায়।

উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম কণ্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়ের জন্ম নীলফামারী জেলায়। মা বীণাপাণি রায়, বাবা হরলাল রায়। তাঁর সংগীতচর্চা শুরু হয় পিতা এবং পরবর্তীকালে গুরু পিসি গোমেজের কাছে। ভাওয়াইয়া গানের জনপ্রিয় এই শিল্পী ১৯৬০ সালে রেডিও এবং ১৯৬৫ সালে টেলিভিশনে নিয়মিত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৬৬ সালে তিনি এসএসসিতে উর্ত্তীণ হয়ে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬৮ সালে বাংলা সাহিত্য বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। দেশাত্মবোধক গান চর্চার পাশাপাশি ভজন, কীর্তন, রামপ্রসাদী, শ্যামাসংগীত, ভাটিয়ালি, মুর্শিদী, মারফতি, লালনসহ সিলেটের গীতিকবিদের গানও গেয়ে থাকেন তিনি।

সবার জন্য উন্মুক্ত এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।