ফ্যাশনে বৈচিত্র্যে বাংলার খাদি কাপড়

তাঁতে বোনা আপাত আবেদনহীন এক মোটা কাপড় খাদি। কিন্তু ইতিহাসের আশ্রয়ে হয়ে উঠেছে ‘স্বদেশী’ এবং স্বদেশের প্রতীক। সম্পূর্ণ সুতায় তৈরি আরামপ্রদ এই কাপড় যুগ যুগ ধরে এদেশের মধ্যবিত্ত মানুষের প্রিয়। এ কাপড়ে তৈরি পাঞ্জাবির ঐতিহ্যও দীর্ঘদিনের। এছাড়া শার্ট, ফতুয়া, মেয়েদের সালোয়ার কামিজ দেশ-বিদেশে ব্যপক সমাদৃত। তাছাড়া শুধু পোশাকী আলাপের বাইরে গিয়ে সাক্ষী হয়ে আছে দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাদি কাপড়কে জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (এফডিসিবি) আয়োজন করেছে ‘ট্রেসেমে খাদি, দ্য ফিউচার ফেব্রিক শো ২০১৭’। এই উৎসব ও ফ্যাশন শো এবার পা দিয়েছে তৃতীয় বছরে।

গত ৩ নভেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের ৩ নম্বর মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর গুলশানের গার্ডেনিয়া কনভেনশন সেন্টারে প্রদর্শিত হবে পোশাকগুলো। ক্রেতারা সেখান থেকে পোশাক কিনতে পারবেন।

‘এরই মধ্যে খাদি উৎসব দেশের একটি বৃহৎ সৃজনশীল উৎসবে পরিণত হয়েছে। আমাদের তাঁতিদের তৈরি খাদি কাপড় এরই মধ্যে নতুনভাবে জেগে উঠতে শুরু করেছে। তরুণেরা আবার ঝুঁকছেন খাদির পোশাকে। দেশের কারুশিল্পের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে সহায়ক হবে এই আয়োজন।’ এমন মন্তব্য করেছেন আয়োজকরা।

এবারের উৎসবে দেশ-বিদেশের ২৭ জন ফ্যাশন ডিজাইনারের তৈরি করা পোশাক তুলে ধরা হয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী নানা উপকরণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পোশাকের নকশা করেছেন ডিজাইনাররা। এবারের পোশাকগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে লোকজ মোটিফ। ডিজাইনারদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন মাহিন খান, এমদাদ হক, শৈবাল সাহা, বিপ্লব সাহা, লিপি খন্দকার, চন্দনা দেওয়ান, মারিয়া ইসলাম, ফারাহ আনজুম বারী, শাহরুখ আমিন, নওশিন খায়ের, তেনজিং চাকমা, আফসানা ফেরদৌসি, রাকা, ফাইজা আহম্মেদ, রিমা, সারাহ করিম, ফারাহ দিবা ও রুপো শামস। দেশের বাইরে থেকে আসবেন ভারতের হিমাংশু ও সৌমিত্র মণ্ডল, নেপালের রসনা শ্রেষ্ঠা, ভুটানের চিমমি চোডেন, মালয়েশিয়ার জ্যাকলিন ফং, শ্রীলঙ্কার নিলন হারাসগভানা ও থাইল্যান্ডের সুকিজিত দাংচাই।

খাদি উৎসব আয়োজনের টাইটেল স্পনসর ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড ট্রেসেমে। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আরও আছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বেঙ্গল গ্রুপ লিমিটেড, মাইক্রোসফট বাংলাদেশ, সেনোরা, বার্জার, আইপিএবি, দ্রুক এয়ার ও দা ওয়ে ঢাকা।