ফ্যাশনে বৈচিত্র্যে ভবিষ্যতের বয়ন

তাঁতে বোনা আপাত আবেদনহীন এক মোটা কাপড় খাদি। কিন্তু ইতিহাসের আশ্রয়ে হয়ে উঠেছে ‘স্বদেশী’ এবং স্বদেশের প্রতীক। সম্পূর্ণ সুতায় তৈরি আরামপ্রদ এই কাপড় যুগ যুগ ধরে এদেশের মধ্যবিত্ত মানুষের প্রিয়। এ কাপড়ে তৈরি পাঞ্জাবির ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। এছাড়া শার্ট, ফতুয়া, মেয়েদের সালোয়ার কামিজ দেশ-বিদেশে ব্যপক সমাদৃত। তাছাড়া শুধু পোশাকী আলাপের বাইরে গিয়ে সাক্ষী হয়ে আছে দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের।
এই ঐতিহ্যবাহী খাদি কাপড় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দুই দিনব্যাপী ফ্যাশন শো। ট্রেসেমে নিবেদিত এবং ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ আয়োজিত এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয় গত ৯ ও ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘দ্যা ফিউচার ফেব্রিক শো’ নামের এই উৎসব।
বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে খাদি কাপড় আর সারা বিশ্বে আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে চলা একটি ব্র্যান্ড হলো- ট্রেসেমে। তাই খাদি উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিলো- আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সংযোগ স্থাপন করে বহির্বিশ্বে ডিজিটাল ফ্যাশনের সঙ্গে খাদির পরিচয় ঘটানো।

৯ ডিসেম্বর এবারের খাদি উৎসব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর। ১০ ডিসেম্বর সমাপনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ এফডিসিবি-র সভাপতি ও ফ্যাশন ডিজাইনার মাহিন খান, খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনার এমদাদ হকসহ দেশি-বিদেশি অনেক নামকরা ফ্যাশন ডিজাইনার অংশ নেন এবারের খাদি উৎসবে। খাদি উৎসবে অংশ নেন দেশি ১৭ জন ডিজাইনার। তারা হচ্ছেন- মাহিন খাঁন, এমদাদ হক, চন্দনা দেওয়ান, লিপি খন্দকার, বিপ্লব সাহা, মারিয়া ইসলাম, শৈবাল সাহা, ফারাহ আনজুম বারী, কুহু, শাহরুখ আমিন, নওশীন খায়ের, হুমায়েরা খাঁন, তেনজিং চাকমা, ফারা দিবা, ফাইজা আহম্মেদ, রিফাত রাকা ও আফসানা ফেরদৌসি।
এবারের খাদি উৎসবের অনুপ্রেরণা ছিল বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাসমূহ। ফ্যাশন শোতে ডিজাইনারদের তৈরি খাদি পোশাকের অসাধারণ সম্ভার নিয়ে একে একে র‌্যাম্পে ওঠেন মডেলরা। এছাড়া গত ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর গুলশানের গার্ডেনিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় খাদি পণ্যের প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনী সবার উম্মুক্ত ছিল।
খাদি উৎসব আয়োজনে সহযোগিতা করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বেঙ্গল গ্রুপ অব লিমিটেড। অন্যান্য স্পন্সরের মধ্যে ছিল গ্রীন ডেল্টা ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, সেনোরা, সিটি ব্যাংক লিমিটেড, কাজী এন্ড কাজী টি, ক্রাউন সিমেন্ট এবং ডি এম ডুব্লিউ।