বালিঘর বাঁধতে নেমেছে

রবীন্দ্রবাণী অপভ্রংশ করার দায় নেবার আগে একটা সুসংবাদ দেওয়া যাক, কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক অরিন্দম শীল নির্মাণ করতে যাচ্ছেন নতুন ছবি- বালিঘর। খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ঢেউ আসে ঢেউ যায় উপন্যাস অবলম্বনে ভারত বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটি নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হলো গত ২০ জানুয়ারি। ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দিলেন পরিচালকসহ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ক্রিয়েশন্স।

সাত বন্ধুর পুনর্মিলনীর গল্প নিয়েবালিঘর। শান্তিনিকেতনে একসঙ্গে পড়ার সময় থেকেই বন্ধুত্ব। অনেকদিন বিচ্ছেদের পর একসঙ্গে মিলিত হবার প্রয়াসে নিজেরা নতুন করে আবিষ্কার করে নিজেদের। সম্পর্কগুলোও নতুন করে ধরা দেয় ওদের সামনে। উপন্যাসের গল্প এরকমই। আর চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলবেন বাংলাদেশ ও ভারতের সাতজন তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী। কুশীলব হিসেবে ভারত থেকে আবির চট্টপাধ্যায়, পার্নো মিত্র, রাহুল বন্দোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য এবং বাংলাদেশ থেকে থাকবেন কাজী নওশাবা আহমেদ, নুসরাত ইমরোজ তিশা ও আরেফিন শুভ।

ছবির চিত্রায়নের ৯৫ভাগ ধারণ করা হবে বাংলাদেশেই- কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন লোকেশনে। এমনটাই জানালেন পরিচালক অরিন্দম শীল। গল্প নির্বাচনের ব্যাখ্যাও দিলেন তিনি, ‘এ গল্পটি নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি এ কারণে যে, আমাদের শুধু যে ভাষা এক, তা নয়। আমাদের সংস্কৃতিও এক। আমাদের আচার-ব্যবহার অনেক কিছু এক। সব থেকে বড় ব্যাপার আমাদের ইমোশন এক। আমরা এক ভাষায় কাঁদতে পারি, এক ভাষায় হাসতে পারি। এ রকম ইমোশন নিয়ে যদি চলচ্চিত্র করা যায়, হয়তো মন্দ হয় না। এই ছবিটি সম্পূর্ণভাবে রিলেশনশিপ ভিত্তিক।’

চুক্তিপত্র বিনিময় করছেন অরিন্দম শীল ও লুভা নাহিদ চৌধুরী

সে সম্পর্ক কেমন তারও একটা উত্তর দিলেন অরিন্দম, ‘যে সম্পর্ক আমাদের দৈনন্দিন, যে সম্পর্ক আমাদের প্রতিদিনের বাস্তব জীবনে, যেমন- স্বামী, স্ত্রী, বন্ধু- এর বাইরেও অনেক সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরণের সম্পর্ক নিয়েই বালিঘর।’

উপন্যাসের পুরী সমুদ্র সৈকত সিনেমায় উঠে আসবে কক্সবাজার রূপে। গল্পের পাকেচক্রে থাকছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। নির্মাতা অরিন্দম শীল তেমনটাই জানালেন, ‘সিনেমায় এই সাত বন্ধুর ভাবনার বড় একটা জায়গাজুড়ে থাকবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ওদের বন্ধুত্বের মূল শক্তিটাই হলো রবীন্দ্রনাথ। অনেক বছর পর তারা যখন কক্সবাজার সৈকতে এসে আবার একত্র হয়, তখন সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন ভেসে উঠবে। সেখানেও আসবে রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ।’

ভাষা, সংস্কৃতি, বন্ধুত্ব অনেক সুতোয় বাঁধা দুই বাংলার সম্পর্ক। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার কথা বললেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। বাংলা চলচ্চিত্রের সুবর্ণ অতীতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রের পুনর্জাগরন ঘটছে। এসময় দুই বাংলার মধ্যে প্রীতির বন্ধন গড়তে পেরে আমরাও গর্বিত।’

চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আমাদের জন্য চমৎকার সংবাদ বলে মনে করে প্রখ্যাত নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম। তিনি বললেন, ‘এরকম যত বিনিময় হবে আমরা ততো বেশি উপকৃত হবো।’

চলচ্চিত্রের অন্যতম তিন কুশীলব তিশা, শুভ ও নওশাবা।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অরিন্দম শীলের সিনেমায় নিয়মিত সংগীত পরিচালক পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ। এবার অবশ্য বাংলাদেশের ব্যান্ড চিরকুটকে সঙ্গে নিয়ে সংগীত পরিচালনা করবেন তিনি। ইতিবাচক প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেন তিনিও।

বাংলাদেশের বেঙ্গল ক্রিয়েশন্‌স ও ভারতের নাথিং বিয়ন্ড সিনেমা যৌথভাবে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করবে চলচ্চিত্রটি। সংবাদ সম্মেলনে দুই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং অরিন্দম শীল। এসময় বেঙ্গল ক্রিয়েশন্স এর অন্যান্য কর্তাব্যক্তির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব আবুল খায়ের এবং চলচ্চিত্রটির অভিনয় শিল্পী আরেফিন শুভ, নুসরাত ইমরোজ তিশা ও কাজী নওশাবা আহমেদ।

সংগীত আয়োজনে থাকবেন ভারতের সঙ্গীতজ্ঞ বিক্রম ঘোষ ও বাংলাদেশের ব্যান্ডদল চিরকুট এবং চিত্রধারণ করবেন ভারতীয় চিত্রগ্রাহক সৌমিক হালদার।