বেঙ্গল ইনস্টিটিউট এর সনদ পেল ৫৩ শিক্ষার্থী

গত ২৫ মে রোববার বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপ অ্যান্ড সেটলমেন্টস এর সেমিনারে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে গত তিনটি পর্বের সনদ বিতরণ করা হয়। সনদ বিতরণ করেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গবেষণার পাশাপাশি নিয়মিত অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বেঙ্গল ইনস্টিটিউট। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞজন সেমিনারে বক্তব্য রাখেন এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয় এই সেমিনারে। তারই ধারাবাহিকতায় গত তিনটি পর্বে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সনদ বিতরণ করেন মাননীয় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আবুল খায়ের, মহাপরিচালক কাজী খালিদ আশরাফ, অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টর স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুমসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তাঁর বক্তৃতায় ঢাকার শহরের হারিয়ে যাওয়া শান্ত পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ঢাকার বুক থেকে মনোমুগ্ধকর উপাদান হারিয়ে যাচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে বেঙ্গল ইনস্টিটিউট এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাজী খালিদ আশরাফ। প্রতিষ্ঠানে দুই বছরের সাফল্য তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, একই সঙ্গে অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে এবং ‘ভাস’নামে নিয়মিত ম্যাগাজিনও প্রকাশ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়াও একটি ধারাবাহিক বই লোকেশন্স এর প্রথম সংখ্যাও ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। ভবিষ্যতে হার্ভার্ড, এমআইটি এবং হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও বেঙ্গল ইনস্টিটিউট কাজ করবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। তিনি মন্তব্য করেন, স্থাপত্যবিদ্যা শুধুমাত্র ভবন নকশা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর ব্যাপ্তি আরও দূরে বিস্তৃত হওয়া উচিত।

এরপর বেঙ্গল ইনস্টিটিউটের গত এক বছরের পথচলার প্রামাণ্য তথ্য ও চিত্র নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

সনদ গ্রহণ করছেন এক শিক্ষার্থী

প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাডেমিক সমন্বয়ক মোহাম্মম তৌহিদ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, গত দুই বছরে সর্বমোট ২৮০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন এই আয়োজনে যেখানে ক্লাস নিয়েছেন ৪০ জন দেশি ও ৪০ জন বিদেশী প্রসিদ্ধ বিশেষজ্ঞ। এঁদের মধ্যে ছিলেন বলকৃষ্ণ দোশি এবং ইউহানি পালাজমার মতো বিশ্বখ্যাত স্থপতি।

বেঙ্গল ইনস্টিটিউট আয়োজিত সেমিনারের গত তিনটি পর্বেই অংশ নিয়েছেন স্থপতি তাজরিন আহমেদ। চীনের ছিংহুয়া ইউনিভার্সিটির স্কুল অব আর্কিটেকচার থেকে স্নাতক করার পরও এই কোর্স কেন করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থাপত্যবিদ্যা শুধুমাত্র ভবন নকশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে অন্যান্য অনুষঙ্গও জড়িত। এই সেমিনারগুলোতে স্থাপত্যবিদ্যার বাইরেও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে যেগুলো আমার গবেষণা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে অনেক সাহায্য করবে।’