বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যাত্রাকথন

গত ১৭ আগষ্ট প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় মত ও অভিজ্ঞতা বিনিমিয় সভা ‘Share & Connect’। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি, পরামর্শক ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানরা তাঁদের পথচলা, অর্জন ও সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য সম্বন্ধে বলা হয় – বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা ও প্রবাহমান সাংস্কৃতিক ধারাকে নবীন দৃষ্টিভঙ্গীতে সঞ্জীবিত করা এবং এই ধারার আলোকে চর্চা ও সাধনা অব্যাহত রাখা, এবং সাংস্কৃতিক চর্চার নানামুখীন কর্মপ্রবাহের মধ্য দিয়ে জনরুচি, জীবন ও মননে মাত্রা সঞ্চার করা।
নাতিদীর্ঘ ভিডিও পরিবেশনার মাধ্যমে উন্মোচিত হয় গত দুই দশকের নানা অজানা তথ্য, পথচলায় সাফল্য-অসাফল্যের গাথা, উদ্দেশ্য ও স্বপ্নের কাহিনী। আগামীর জন্য স্থির করা হয় নতুন কিছু লক্ষ্য, আঁকা হয় ভবিষ্যতের যাত্রপথ। কালের সঙ্গে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের বিস্তার ও বিবর্তন, কর্মপরিধি সম্প্রসারণ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রভাব, প্রকৃতি ও প্রত্যয় সম্বন্ধে সকলে সম্যক ধারণা লাভ করেন।
বেঙ্গলের সুবিশাল ভিডিও ও অডিও ভাণ্ডার থেকে বাছাই করে প্রচার করা হয় কিছু দুর্লভ ভিডিও ও স্থিরচিত্র। এর ফলে প্রতিভাত হয় দুই দশকে সঞ্চিত ভিডিও ও অডিও ভাণ্ডারের প্রকৃত গুরুত্ব। সকলেই একমত হন যে শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ে আগ্রহী আগামীর গবেষকের জন্য বেঙ্গলের এই ভিডিও ও অডিও ভাণ্ডার হবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। দেশকে চিনতে ও জানতে, চিত্রকলা ও গানের সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করতে বেঙ্গলের প্রকাশনাসমূহ এবং ধারণ করা ভিডিও ও অডিও তথ্যভাণ্ডার অত্যন্ত সহায়ক হবে। তাই এগুলো জাতির সম্পদ এবং যত্ন করে সংরক্ষণ করা উচিত।
সমাপনী বক্তব্যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের বলেন যে সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে মানুষ সুশীল হয়, আরও মানবিক হয়। সে-কথা স্মরণ রেখেই যেন আমরা আগামী পথ নির্মাণ করি। দেশের সকল মানুষের জন্য কল্যাণকর পরিবেশ, শান্তি ও সমাজে সমতা নিশ্চিত না করলে অস্থিরতা দূর হবে না। তাই বৃহত্তর সার্থের কথা চিন্তা করে দেশের দূর ভবিষ্যৎ ও কাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে। তবেই মননশীল কাজে মনোনিবেশ করা সম্ভব হবে, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা অব্যাহত থাকবে।