মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন বিশ্ব ঐতিহ্য

জাতিসংঘ শিক্ষা , বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেসকো) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেল বাংলাদেশের বর্ষবরণের অন্যতম প্রতীক মঙ্গল শোভাযাত্রা। মানব জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এ শোভাযাত্রায় শিক্ষক-ছাত্রসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিবছর অংশ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-ছাত্রদের তত্ত্বাবধানে ১৯৮৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এ শোভাযাত্রা নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ইউনেসকোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের (ইনট্যানজিয়েবল কালচারাল হেরিটেজ) তালিকায় স্থান করে নিয়েছে শান্তির প্রতীক এই শোভাযাত্রা। গত ২৯ নভেম্বর ফ্রান্সে বাংলাদেশের দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এই তথ্য।
ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় আন্তর্দেশীয় কমিটির একাদশ বৈঠকে ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব ইনট্যানজিয়েবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটির তালিকায় বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
ইউনেসকো কমিটি বলেছে, এই মঙ্গল শোভাযাত্রা বাংলাদেশের মানুষের সাহস আর অশুভের বিরুদ্ধে গর্বিত লড়াই আর ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রতীকী রূপ। ধর্ম, বর্ণ, জাতি, বয়স, লিঙ্গ পরিচয়নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণও মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয় ইউনেসকো কমিটি।
এ বৈঠকে বাংলাদেশের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেসকোতে স্থায়ী প্রতিনিধি মো. শহিদুল ইসলাম, ইথিওপিয়া ও আফ্রিকান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মো. মনিরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন মো. নিসার হোসেন এবং প্যারিসে বাংলাদেশে দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ফারহানা আহমেদ চৌধুরী।
২০১৪ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ‘নমিনেশন প্রোপোজাল’ পাঠানো হয়। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও ইনট্যানজিয়েবল কালচারাল হেরিটেজ বা অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকা করে ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। এবং প্রতিটি বিষয়ের বিবরণ তুলে ধরা হয়। এ অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ও ঐক্যবদ্ধ সংস্কৃতি বিশ্বের কাছে নতুনভাবে ধরা পড়বে বলে মনে করছেন সবাই।