লুভা নাহিদ চৌধুরীর একক সংগীতসন্ধ্যা

রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল যদি এক মুহূর্তের তরে আলো না দেয় তবুও বর্ণিল আলোচ্ছটায় পূর্ণ থাকে বাংলা গানের গগন। আরো তিন সূর্য যাদের কথা, সুর ও স্বর আমাদের অফুরন্ত সংগীত সুধার উৎস হয়ে আছে- অতুলপ্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও রজনীকান্ত সেন। এঁদের গানের চরণে উদ্‌যাপিত হলো আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস ২০১৭। এই বিশেষ দিন স্মরণ করতে আয়োজন করা হয় শিল্পী লুভা নাহিদ চৌধুরীর একক সংগীতসন্ধ্যা। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে গতকাল ২০ মে অনুষ্ঠিত হয় এই গানের আসর।

শিল্পী এবং শিল্প সংগঠক হিসেবে খ্যাত লুভা নাহিদ চৌধুরী বর্তমানে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন । শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিয়োমিত সংগীত চর্চা করেন, সংগীতের প্রতি প্রেমই তার একমাত্র কারন।

একে একে গাইলেন ১৪ টি গান। দ্বিজেন্দ্রলাল ও রজনীকান্তের একটি করে এবং বাকি গান গাইলেন অতুলের। শুরু করেন অতুলের ‘এসো গো একা ঘরে’ গানটি দিয়ে। তানপুরা বাজিয়ে একে একে তিনি গেয়ে শোনান, ‘আমি সারা সকাল বসে বসে’, ‘তুমি কবে আসিবে মোর আঙিনায়’, ‘কে যেন ডাকিছে মোরে’, বাউলাঙ্গের গান ‘ওরে বন তোর বিজনে সঙ্গোপনে’, গজল প্রভাবী গান ‘বল গো সজনী কেমনে ভুলিব’, কীর্তন অঙ্গের ‘আজি এ নিশিতে সখি’, বৈতালিক গান ‘ক্রন্দসী পথচারিণী তুমি কোথা যাও’ এবং সংগীতশিক্ষার শুরুর দিকে শেখা অতুলের ‘আমার ঘুম ভাঙানো চাঁদ’।

গানের মাঝে মাঝে তিনি সুর ও রাগের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন শ্রোতাদের। যেমন, পূর্ববঙ্গের বাউল গান এমনকি লক্ষ্ণৌ এর গজলের প্রভাব ছিল অতুলের গানে। উদাহরণ দেওয়ার জন্যই কিনা গেয়ে শোনালেন সেসব গান।

এ ছাড়া দরবারি রাগে ঝাঁপতালে তিনি গেয়ে শোনান ‘বাজে মৃদঙ্গ বীণা’, ১৯৩৮ সালে হিমাংশু দত্তের সুর করা ‘ঝরানো পাতার পথে’, পশ্চিমা ঢঙের সুরে রজনীকান্তের ‘বেলা যে ফুরায়ে যায়’ গানগুলো। শেষ করেন অতুলের চেনা ‘বধুয়া নিঁদ নাহি আঁখিপাতে’ গানটি দিয়ে।

বছরজুড়ে রাজধানীর সংগীতপিপাসুদের সামনে গুণী ও কিংবদন্তি সব শিল্পীকে উপস্থাপন করেন তিনি। শিল্পকলার সেবা করতে গিয়ে শিল্পী হিসেবে অনিয়োমিত হলেও গতকালের আসরে দর্শক উপস্থিতি জানান দিচ্ছিল, তাঁর শিল্পীসত্ত্বার খবর মোটেই অজানা নয়।