শিল্প প্রদর্শনীতে ‘আত্ম/পরিচয়’

জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনকক্ষে ঢুকতেই চোখে পড়ল নানা আকারের লোহার ফ্রেম ও কালো পর্দার জ্যামিতিক বিন্যাসের এক স্থাপনাকর্ম। ফ্রেম ও পর্দার বিভিন্ন কোণ থেকে বিচ্ছুরিত লেজার রশ্মি ও আলোক প্রক্ষেপণ সৃষ্টি করেছে আলো-আঁধারির নান্দনিক বৈপরীত্য। তার মাঝে মাঝে কতগুলো নাম ফুটে উঠছে পর্দায়- ফারাজ, অবিন্তা, তারিশি, ইশরাত…। নামগুলো এখন সবার জানা। একই সঙ্গে বেদনা, বীভৎস ও সাহসিকতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নামগুলো। গুলশানের হলি আর্টিজানে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করেই দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো ১৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করেছে ‘আত্ম/পরিচয়’ নামে নবীন শিল্পীদের কাজ নিয়ে এই দৃশ্যশিল্প প্রদর্শনীর।
নবীন শিল্পীদের দৃশ্যশিল্পের এই প্রদর্শনী শুরু হয় গত ৫ নভেম্বর। ওই দিন বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনকক্ষে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন শিল্পী নেসার হোসেন এবং প্রদর্শনীর কিউরেটর শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান।
প্রদর্শনীতে অনূর্ধ্ব ৩৫ বছরের ২৬ জন শিল্পীর শিল্পকর্ম উপস্থাপিত হয়। এর মধ্যে ছিল চিত্রকলা, ভাস্কর্য, গ্রাফিক ডিজাইন, আলোকচিত্র, ভিডিও চিত্র, স্থাপনা, আলো ও শব্দসহ বিভিন্ন মাধ্যমের কাজ। প্রদর্শনীর প্রতিদিনই সন্ধ্যায় ছিল পারফরম্যান্স আর্টের আয়োজন। আপন ব্যঞ্জনায় স্বতন্ত্র এসব শিল্পকর্ম একসঙ্গে সৃষ্টি করেছিল এক বিপুল ঐকতান। তরুণ শিল্পীদের সৃজনী মহিমার প্রশংসা করেন আগত অতিথিরা।
প্রদর্শনীতে আত্ম-অনুসন্ধানের পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব, বিশেষ করে উন্নয়নের প্রকল্প পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, সেই দিকটিও ছিল। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় ও জনমত গঠনে যে বিপুল ও বহুমাত্রিক প্রভাব-প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে, তা-ও ছিল প্রদর্শনীর একটি বড় অংশজুড়ে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত।