শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র উৎসব

শুরু হতে যাচ্ছে ১১তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব। আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একযোগে ঢাকার কয়েকটি মিলনায়তনে শুরু হবে এ উৎসব, যার প্রধান ভেন্যু হবে শাহবাগের গণগ্রন্থাগার মিলনায়তন। এতে প্রদর্শিত হবে শিশু কিশোরদের উপযোগী পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, এনিমেশন ফিল্ম এবং বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র।

‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামীর স্বপ্ন’ এই স্লোগান সামনে রেখে ২০০৮ সাল থেকে চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি প্রতিবছর এ আয়োজনটি করে আসছে। এবার ১১তম আসরে পা দিলো উৎসবটি। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিলো শিশু কিশোরদের জন্য একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে তাদের প্রতিভা উন্মোচন এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তাদের ভূমিকা নিশ্চিত করা। বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষার্জন তাদের অন্যতম চলমান উদ্দেশ্য।

চলচ্চিত্র উৎসবটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘Violance against girls’। বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত হয়ে এই উৎসব পরিচালিত হয়। এবারও জাতীয়, আন্তর্জাতিক এবং বয়সভিত্তিকভাবে সাজানো হয়েছে উৎসবকে। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশিদের নিয়ে একটি বিভাগ, ১৯-২৫ বয়সী তরুণদের নিয়ে একটি, আরেকটি হলো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা যার কোন বয়স সীমা বা চলচ্চিত্রের সুনির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের বাধ্যবাধকতা নেই। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটি হলো আসরভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সামাজিক ইস্যু নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিযোগিতা। যাতে অংশগ্রহণের জন্য অনুর্ধ্ব ২৫ বছর এবং বাংলাদেশি হতে হবে। তারা নির্মাণ করবে আমাদের সমাজে বিদ্যমান নির্দিষ্ট কোন সমস্যা নিয়ে চলচ্চিত্র।

এই উৎসবে দেশি বিদেশি প্রায় ১৫০০ চলচ্চিত্র জমা পড়েছিলো। সেখান থেকে চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি ২০০ চলচ্চিত্র মনোনিত করেছে উৎসবের জন্য। চূড়ান্তভাবে বিচারকার্যের জন্য বিচারক প্যানেলে রয়েছেন মোস্তফা সারয়ার ফারুকী, মেজবাউর রহমান সুমন এবং ভারতের অরুণ গুপ্ত।

প্রতিযোগিতায় সেরা ৫ ছবির জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার। পুরষ্কার হিসেবে থাকবে নগদ অর্থ, স্মারক এবং সনদ। এই উৎসবে দেশি বিদেশি চলচ্চিত্র দেখার ব্যবস্থা, ওয়ার্কশপ এবং সেমিনারে অংশগ্রহণের পাশাপাশি শিশু কিশোরদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সু্যোগ।

এবছরের প্রত্যাশা নিয়ে উৎসব পরিচালক আবীর ফেরদৌস বলেন, ‘উৎসবটি প্রতিবছর বড় হচ্ছে এবং আগের চেয়ে সাধারণ মানুষসহ শিশু কিশোরদের আগ্রহ বেড়ে চলেছে। আমরা আশা করছি এই উৎসবের মাধ্যমে শিশুদের চলচ্চিত্রে মেধা বিকাশ হবে যার ফলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’