সংবর্ধিত হলেন আবুল খায়ের

নভেম্বর এলেই গোটা দেশের মানুষ অপেক্ষা করে কবে শুরু হচ্ছে উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব। অথচ কেউ কল্পনাও করেনি যে শাস্ত্রীয় সংগীত শোনার জন্য হাজার লোকের লাইন লেগে যাবে। হ্যাঁ, বাস্তব কল্পনার চেয়েও অবিশ্বাস্য। এই অবিশ্বাস্য ঘটনার বাস্তব রূপায়ন ঘটিয়েছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। এছাড়াও সংগীত, চিত্রকলা ও সাহিত্যে দীর্ঘদীন ধরে অবদান রেখে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সে জন্য গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সম্মাননা জানানো হলো বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সুযোগ্য সভাপতি জনাব আবুল খায়েরকে।
রাজধাণীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের। দেশের স্বনামখ্যাত অভিনেতা, কণ্ঠ ও নৃত্যশিল্পী, চিত্রকর, শিক্ষক, রাজনীতিবিদদের উপস্থিতিতে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁদের উপস্থিতিতে গান, স্মৃতিচারণা ও প্রশস্তিবাক্যে অভিনন্দিত করা হয় আবুল খায়েরকে। তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তৃতা দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর, দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম ও প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন,‘কাজ ফেলে রেখেও যেতে হয় বেঙ্গলের উচ্চঙ্গসংগীত উৎসবে। সরকারের যা করার কথা, সেটা আবুল খায়ের করে দিচ্ছেন। প্রত্যাশা করি, তিনি আরও বড় কাজ করুন।’
স্বাগত বক্তব্যে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ‘উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব আয়োজনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল: এক. যা করতে হবে বড় করে করতে হবে, দুই. পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্পীদের সমাগম ঘটাতে হবে এবং তিন. বড় অনুষ্ঠান হিসেবে প্রবেশমূল্য ছাড়া করতে হবে। সে করে দেখিয়েছে।’
সবাইকে অবাক করে দিয়ে এসময় মঞ্চে আসেন আবুল খায়েরের মা মমতাজ খালেক। সন্তানকে আশীর্বাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে শুধু দেশের নয়, সারা পৃথিবীর। সে যেন দীর্ঘজীবী হয়।’
অবশেষে আবুল খায়েরসহ মঞ্চে ডাকা হয় বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, পরিচালক জিনাত আফরোজা, ব্লুজ কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী ফরহাদুল ইসলাম ও অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক রেজওয়ানকে। তাঁদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। আবুল খায়ের ও তাঁর মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিদুষী গিরিজা দেবীর সঙ্গে তোলা তাঁদের মা-সন্তানের ছবি।
এসময় আবুল খায়ের বলেন, ‘স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। ইচ্ছে ও সৎ উদ্দেশ্য থাকলে নাকি স্বপ্ন সার্থক হয়। সে জন্যই হয়তো নিজের কাজের জন্য আজ সম্মান পাচ্ছি।’
সম্মাননা অনুষ্ঠানে গান শোনান শামা রহমান ও অদিতি মহসিন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, রুনা লায়লা, আলমগীর, আনোয়ারা সৈয়দ হক, রামেন্দু মজুমদার, মুনতাসীর মামুন, মফিদুল হক, রুবী গজনবী, শিল্পী উদয় ভাওয়ালকর, পণ্ডিত কুশল দাস, চিত্রকর আবুল বারক আলভী, মনিরুল ইসলাম, হাশেম খান, অভিনয়শিল্পী ইলিয়াস কাঞ্চন, আফজাল হোসেন, জাহিদ হাসান, তৃষা, পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং বিভিন্ন অঙ্গনের আরও গুণীজন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক।