‘সব্যসাচী শিল্পী’ উপাধিতে ভূষিত হলেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার

বরেণ্য ও প্রথিতযশা শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্পভুবনের সর্বত্রই যাঁর পদচারণ। ১ সেপ্টেম্বর ছিল তাঁর ৮২তম জন্মদিন। তাঁর জন্মদিন স্মরণীয় করে রাখতে ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ’-এর আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের গ্যালারি চত্বরে অনুষ্ঠিত হলো ‘পথচলার ৮২ বছরে মুস্তাফা মনোয়ার’ শিরোনামের এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে দেওয়া হলো ‘সব্যসাচী শিল্পী’ উপাধি। এই উপাধি ঘোষণা করেন দেশের আরেক বরেণ্য শিল্পী মনিরুজ্জামান। শিল্প-সমালোচক মঈনুদ্দিন খালেদের লেখা মানপত্র শিল্পীর হাতে তুলে দেন শিল্পী রফিকুন নবী।
শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, নাট্যজন ও সংস্কৃতিজন এবং বাংলাদেশের প্রায় সব চারুশিক্ষা  প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক এবং সুধীজন এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
সবার ভালোবাসায় আপ্লুত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার বলেন, ‘শিল্পীরা আনন্দলোকে বিচরণ করেন, মঙ্গলালোকে পথ চলেন। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল আমাদের মাঝে শৈল্পিকবোধ জাগ্রত করেন। সমাজে যা ঘটবে, তা মেলে ধরাই শিল্পীর সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। আর আমি শিল্পের পথ ধরেই এত দিন চলেছি। সামনের দিনগুলোতেও এমনভাবে চলতে চাই।’
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার সম্পর্কে বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। তিনি আমার চেয়ে চার বছরের বড়। সে জন্যই আমি প্রার্থনা করি, তিনি যেন হাজার বছর আমাদের মাঝে বেঁচে থাকেন। সেই সঙ্গে আমিও চার বছরের ব্যবধানে থাকতে চাই।’
প্রসঙ্গত, শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশের যশোর জেলার মাগুরা (বর্তমান মাগুরা জেলা) মহকুমার শ্রীপুর থানার নাকোল গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা প্রয়াত কবি গোলাম মোস্তফা এবং মা জমিলা খাতুন।