ইশারায় জাতীয় সংগীত গাইল শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা

বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয় জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে। দেশের শিক্ষার্থীদের ভেতর প্রতিদিন প্রভাতে সঞ্চারিত হয় দেশাত্ববোধ- আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। এ ছাড়াও জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সুমধুর এই সংগীত গাওয়া কিংবা শোনার ক্ষমতা নেই কিছু মানুষের। তারা বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। দুই হাতের ইশারাই তাদের যোগাযোগের প্রধান অবলম্বন। সর্বস্তরের মানুষের মাঝে জাতীয় সংগীত ছড়িয়ে দিতেই ধানমণ্ডির বেঙ্গল বইয়ে অনুষ্ঠিত হলো ইশারা ভাষায় জাতীয় সংগীত। গতকাল, ২৬ মার্চ, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয় নগরের সরকারি বধির হাইস্কুল এর শিক্ষার্থীরা ইশারা ভাষায় পরিবেশন করে জাতীয় সংগীত।

জনপ্রিয় বই বিপনি বেঙ্গল বই শুরু থেকেই বিভিন্ন উৎসবে পার্বনে আয়োজন করে আসছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তারই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা জল পড়ে পাতা নড়ের সঙ্গে বেঙ্গল বই আয়োজন করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘লাল সবুজের দেশে’। এদিন সন্ধ্যায় ইশারা ভাষায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি ম্যাজিক শো ও দলীয় নৃত্য পরিবেশনার আয়োজন করে তারা। পরিবেশকারী শিক্ষার্থীদের সবাই শ্রবণ প্রতিবন্ধী। এরপর জাদু প্রদর্শন করে প্রখ্যাত জাদুশিল্পী উলফাত কবির এবং একটি দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে ম্যানগ্রোভ স্কুলের শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের বার্তা পরিচালক নাসির আহমেদ এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।

ইশারা ভাষায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের জন্য নিয়মিত স্কুলের পরে শিক্ষার্থীদের কয়েক সপ্তাহব্যাপী অনুশীলন করিয়েছেন ইশারাভাষার দোভাষী ও জল পড়ে পাতা নড়ে সহকারি সম্পাদক আহসান হাবিব এবং ইশারাভাষার দোভাষী ফিরোজা বেগম রাণী। শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীরাও যাতে জাতীয় সংগীতের বার্তা পায়, বুঝতে পারে এবং তাদের মধ্যে দেশাত্ববোধ সঞ্চারিত হয় সেই লক্ষ্যেই তাদের দিয়ে ইশারা ভাষায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন আহসান হাবিব। এ ছাড়াও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও এই উদ্যোগ কাজ করবে বলেও আশা করেন তিনি।