৩৭তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন

গত ১১ মার্চ, রবিবার, আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হলো রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদের ৩৭তম জাতীয় আসর। এদিন সকাল ৯টায় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শেষ দিনের অনুষ্ঠানমালা। এরপর সকাল ১১টায় শুরু হয় আবৃত্তি ও সঙ্গীতানুষ্ঠান, দুপুর ১২ অনুষ্ঠিত হয় প্রতিনিধি সম্মেলন। বিকেলে গুণীজন-সম্মাননা ও রবীন্দ্রপদক প্রদান করা হয়। গুণীজন-সম্মাননা ও রবীন্দ্রপদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশ্বজিত ঘোষ।

এর আগে গত ৯ তারিখ, শুক্রবার, আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের। নীলফামারী হাইস্কুল মাঠের বিশাল সবুজ চত্তরে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলনের ৩৭তম অধিবেশন। প্রদীপ প্রজ্বালন করে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূর, এমপি। জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি সন্জীদা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল ইসলাম, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ৩৭ তম জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলনের সদস্যসচিব মুজিবুল হাসান চৌধুরী।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘এই রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন একটি চেতনার উৎসব। যে চেতনাকে আমরা ধারণ করছি হাজার বছর ধরে। বাঙালি হিসেবে সেই চেতনাটি হলো অসাম্প্রদায়িক চেতনা। আমাদের নিত্যদিনের কাজ দিয়ে, অভিজ্ঞতা দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে সেটিকে আমরা ধরে নিয়ে অগ্রসর হতে চাই।’

সভাপতির বক্তব্যে সন্‌জীদা খাতুন বলেন, ‘মানুষ হয়ে জন্মালেই কি মানুষ হওয়া যায়? মানুষ হতে হয় সাধনা করে। মানুষের যত গুণ, সেই গুণের দিকে দিনে দিনে এগিয়ে যেতে হয়। সংস্কৃতি আমাদের সেই পথ দেখায়।’

সন্‌জীদা খাতুনের বক্তব্য শেষে শুরু হয় সংগীতানুষ্ঠান, আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠান। সংগীত পরিবেশন করেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাসহ ঢাকা ও নীলফামারীর শিল্পীরা।

জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলন পরিষদের সভাপতি সন্জীদা খাতুনের সভাপতিত্বে পদক প্রদান অনুষ্টানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল ইসলাম, রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ দেবী প্রসাদ রায়, যুগ্ন আহবায়ক আহসান রহিম মঞ্জিল, নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ প্রমূখ।

তিন দিনব্যাপী জাতীয় এই সম্মেলনে দেশের ৮৪টি রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের আট শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। আট হাজার মানুষ ধারণক্ষমতার প্যান্ডেল করা হয়েছে। নীলফামারীতে প্রথমবারের মতো জাতীয় এই সম্মেলনে রবীন্দ্রসংগীত ছাড়াও গুণীজন সম্মাননা, সেমিনার, নজরুলসংগীত, নৃত্য, নাটক ও সৃজনশীল বাংলা গান, এ অঞ্চলের ভাওয়াইয়া গান পরিবেশিত হচ্ছে। সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। উৎসবটি আয়োজনে সহযোগিতা করছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বেঙ্গল গ্রুপ ও ব্র্যাক ব্যাংক।